বিনোদন জগতের নতুন রিলিজ রাহু কেতু‑এর ট্রেলার সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে পুরাণের রাহু‑কেতু ও আধুনিক শহুরে জীবনের টানাপোড়েন একত্রে ফুটে উঠেছে। জি স্টুডিওস ও ব্লাইভ প্রোডাকশনসের সমর্থনে তৈরি এই কমেডি চলচ্চিত্রটি হালকা মেজাজের সঙ্গে সামাজিক পর্যবেক্ষণকে মিশ্রিত করে উপস্থাপন করতে চায়।
ট্রেলারের শুরুতে অভিজ্ঞ শিল্পী পিয়ুশ মিশ্রা তার স্বতন্ত্র কণ্ঠে রাহু ও কেতুর পটভূমি তুলে ধরেছেন, যা দর্শকদেরকে প্রাচীন কাহিনীর সঙ্গে বর্তমানের দৃশ্যের সেতু গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তার বর্ণনা পুরাণের মূলে থাকা দৃষ্টান্তকে আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে রূপান্তরিত করে।
প্রধান ভূমিকায় পুলকিট সাম্রাট ও ভারুন শর্মা উপস্থিত, দুজনের পারস্পরিক সম্পর্কই ছবির মূল আকর্ষণ। পুলকিটের চরিত্র উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও দ্রুত সাফল্যের পথে শর্টকাটের সন্ধানে, আর ভারুনের চরিত্র শারীরিক কৌতুক ও পরিস্থিতিগত হাস্যরসের মাধ্যমে গল্পে প্রাণ সঞ্চার করে।
পুলকিটের চরিত্রকে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও স্বল্পমেয়াদী লাভের তাড়া হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যা তাকে নানা ধরণের জটিল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। তার চালাক পরিকল্পনা ও অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তগুলোই গল্পের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, ভারুনের পারফরম্যান্স শারীরিক কৌতুকের মাধ্যমে দর্শকের হাসি জাগিয়ে তুলতে লক্ষ্য রাখে। তার হালকা-ফুলকা শৈলী ও অপ্রত্যাশিত গতি ছবির রিদমকে ত্বরান্বিত করে, যা পুলকিটের তীব্র চরিত্রের সঙ্গে বৈপরীত্য গড়ে তোলে।
দুজনের মিথস্ক্রিয়া রাহু কেতু‑এর কেন্দ্রীয় থিমকে সমর্থন করে—মানবিক দুর্বলতা ও তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা। তাদের বন্ধুত্ব ও বিরোধের মাধ্যমে গল্পটি হাস্যরসের সঙ্গে সামাজিক মন্তব্যও উপস্থাপন করে।
শালিনী পাণ্ডে ট্রেলারে আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় চরিত্রে দেখা যায়, যার উপস্থিতি গল্পের নৈতিক ও আবেগীয় দিককে সমৃদ্ধ করে। তার ভূমিকা প্রধান চরিত্রদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে এবং গল্পের সমাপ্তি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিচালক বিপুল ভিগের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট, যেখানে তিনি পুরাণের রঙিন জগৎকে আধুনিক কমেডি ফরম্যাটে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি অভিনেতাদের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে তাদের নিজস্ব শৈলীকে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন, ফলে প্রতিটি পারফরম্যান্সে স্বতন্ত্র স্বাদ যোগ হয়েছে।
ট্রেলারের ভিজ্যুয়াল স্টাইল উজ্জ্বল রঙে ভরপুর, যেখানে পুরাণের প্রতীকী চিত্র ও শহুরে পটভূমি একসাথে মিশে আছে। দ্রুত কাট, চঞ্চল সাউন্ডট্র্যাক এবং হালকা-ফুলকা সংলাপগুলো দর্শকের মনোযোগ বজায় রাখে এবং চলচ্চিত্রের সামগ্রিক টোনকে নির্ধারণ করে।
ফিল্মের মূল বার্তা মানবিক ত্রুটি ও স্বল্পমেয়াদী স্বার্থের ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলাকে হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা। এই পদ্ধতি দর্শকদেরকে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবতে এবং একই সঙ্গে বিনোদনের স্বাদ উপভোগ করতে সাহায্য করে।
পরিবারিক দর্শকদের জন্য রাহু কেতু একটি উপযুক্ত বিকল্প, কারণ এতে শিশু ও বড় উভয়ের জন্যই সহজবোধ্য হাস্যরস ও শিক্ষামূলক উপাদান মিশ্রিত হয়েছে। ট্রেলারে দেখা যায় যে, পুরাণের গল্পগুলোকে আধুনিক রূপে উপস্থাপন করলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে সহজে পৌঁছায়।
সামগ্রিকভাবে, রাহু কেতু ট্রেলার প্রকাশ চলচ্চিত্রের সৃজনশীল দিক, অভিনেতা-অভিনেত্রীর পারফরম্যান্স এবং গল্পের থিমকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। দর্শকরা এখন এই মিশ্রণকে বড় স্ক্রিনে দেখতে আগ্রহী, যেখানে পুরাণের রঙিন জগৎ ও আধুনিক হাস্যরসের সমন্বয় একটি নতুন বিনোদন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।



