টেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পে ২০২৫ সালের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও আর্থিক মন্দার ফলে নন্দমূরি বালকৃষ্ণ ও নায়নথারার সঙ্গে পরিকল্পিত উচ্চ বাজেটের ছবি বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে স্থগিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি শিল্পের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা এবং প্রধান অভিনেতাদের বেতন কাঠামোর পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালে একাধিক বড় বাজেটের ছবি প্রত্যাশিত আয় অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় টেলুগু সিনেমা বাজারে মন্দা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দু’-তিন অঙ্কের কোটি টাকার পারিশ্রমিক দাবি করা শীর্ষ অভিনেতাদের ফি প্রোডাকশন খরচের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রযোজক ও বিনিয়োগকারীরা স্বেচ্ছায় এই ফি কমানোর অনুরোধ করছেন, যাতে আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।
শিল্পের এই সংকটের মুখে বালকৃষ্ণের মতো অগ্রগণ্য তারকারা নিজের পারিশ্রমিক স্বেচ্ছায় কমাতে ইচ্ছুক হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া গেলেও, মোট বাজেটের ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। উচ্চ ফি ছাড়াও, প্রচার, পোস্ট-প্রোডাকশন এবং বিতরণ খরচের বৃদ্ধি সামগ্রিক ব্যয়কে বাড়িয়ে তুলেছে।
গত বছর বড় বাজেটের ছবি “অখণ্ডা ২” ব্যর্থতা এই সংকটকে তীব্রতর করেছে। বিশাল ব্যয় সত্ত্বেও টিকিট বিক্রি প্রত্যাশার নিচে নেমে যাওয়ায় প্রযোজকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এই ব্যর্থতা থেকে প্রাপ্ত আর্থিক ক্ষতি ২০২৬ সালের প্রারম্ভিক পর্যায়ে বহু প্রকল্পের অর্থায়নে প্রভাব ফেলেছে।
পরিচালক গোপীচন্দ মালিনেনি, যিনি “অখণ্ডা ২”-এর পরের বড় পরিকল্পনা হিসেবে বালকৃষ্ণ ও নায়নথারার সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক পোশাক নাট্য চলচ্চিত্রের ঘোষণা দিয়েছিলেন, এখন তার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছেন। মূলত বিশাল সেট, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও বিশাল কাস্টের কারণে খরচের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি ছিল।
বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে মালিনেনি এই প্রকল্পটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রযোজক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন আর্থিক মডেল তৈরি করা হবে, যাতে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হল বালকৃষ্ণের উচ্চ পারিশ্রমিক এবং নায়নথারার জনপ্রিয়তা, যা দুজনের সম্মিলিত ফি প্রোডাকশন বাজেটের বড় অংশ দখল করে। এছাড়া, টেলুগু বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকের চাহিদা পরিবর্তিত হওয়ায়, উচ্চ ব্যয়ের ছবি এখন সহজে মুনাফা অর্জন করতে পারছে না।
প্রযোজক গোষ্ঠী এখন কম বাজেটের মডেল অনুসন্ধান করছে, যেখানে গল্পের গুণমান ও কাস্টের পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তবে ব্যয়কে সীমিত রাখা হবে। কিছু স্টুডিও নতুন তহবিল সংগ্রহের জন্য সরকারি সহায়তা ও কর সুবিধা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
বালকৃষ্ণ-নায়নথারা জুটির অন্যান্য প্রকল্পও একই ধরণের আর্থিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাদের সঙ্গে যুক্ত কিছু চলচ্চিত্রের শুটিং সময়সূচি পুনর্নির্ধারিত হয়েছে, এবং কিছু প্রকল্পের স্ক্রিপ্টে পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে ব্যয় কমানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, টেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পের পুনরুদ্ধার ধীরে ধীরে ২০২৭ সালের দিকে শুরু হবে, যখন বাজারে নতুন ধারার চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় ঘটবে। তখন উচ্চ ফি দাবি করা তারকারা এবং বড় বাজেটের ছবি আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
ফ্যানদের জন্য এই সংবাদটি মিশ্র অনুভূতি তৈরি করেছে; বালকৃষ্ণ ও নায়নথারার সংমিশ্রণ নিয়ে অনেকেরই উচ্চ প্রত্যাশা ছিল, তবে বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করেছে। ভবিষ্যতে কোন সময়ে এই ছবিটি পুনরায় শুরু হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে শিল্পের সামগ্রিক পুনরুদ্ধারকে লক্ষ্য করে সকল পক্ষই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আশাবাদী।



