জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মঙ্গলবার রাতের সময় তাহরিমা জন্নাত সুরভীর বাড়িতে গিয়ে মিডিয়াকে জানিয়েছেন, জন্নাতের মামলায় কোনো ন্যায়বিচার হয়নি এবং পুরো ঘটনাটি কল্পিত।
সোমবার তাহরিমা জন্নাত সুরভী, যাকে “জুলাই যোদ্ধা” বলে পরিচিত, আদালতের রায়ে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পর নাহিদ ইসলাম তার বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, সুরভীর প্রতি বিচারিক প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত হয়নি এবং এই পুরো কাহিনী কল্পিত।
নাহিদের মতে, নির্বাচনের আগে গণমাধ্যমের কিছু অংশ জন্নাতের মতো ব্যক্তিদের খারাপ চিত্র গড়ে তোলার জন্য কৌশলগতভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সুরভীর সঙ্গে যুক্ত এই ঘটনা রাজনৈতিক বিরোধীদের কালিমালিপ্ত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
এনসিপি নেতা স্বীকার করেন, স্বার্থপর গোষ্ঠী দেশের অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এমন কৌশল অবলম্বন করে। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যাতে এই ধরনের কল্পিত কাহিনীর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করা যায়।
ঘটনার পটভূমি হল, সোমবার সকালে এক সাংবাদিকের দায়ের করা অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলায় তাহরিমাকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে, তবে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নেমে আসে।
পরবর্তীতে রিভিশন আবেদন দাখিলের পর আদালত একই রাতেই তাহরিমার জামিন অনুমোদন করে। জামিন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এই ঘটনার দ্রুত অগ্রগতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, এই ধরনের কল্পিত কাহিনী নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং গণমাধ্যমের নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে ন্যায়বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে এবং রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর কল্পিত প্রচেষ্টা থামবে।
তাহরিমা জন্নাতের মুক্তি এবং নাহিদের মন্তব্যের পর, এনসিপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে।
সামগ্রিকভাবে, মামলাটি এখনো আদালতে রিভিশন পর্যায়ে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ন্যায়বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।



