22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাওইসিডি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর চুক্তি: গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্সে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহতি

ওইসিডি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর চুক্তি: গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্সে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহতি

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এবং ১৪৫টিরও বেশি OECD‑G20 দেশের প্রতিনিধিরা সোমবার একত্রে গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্সে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ অব্যাহতি নিশ্চিতকারী চুক্তি ঘোষণা করেছে। এই চুক্তি ২০২১ সালে গ্লোবাল কর কাঠামো গড়ে তোলার পরের সর্বশেষ আপডেট, যা আন্তর্জাতিক কর নীতির দিকনির্দেশনা পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে করা হয়েছে।

২০২১ সালে ওরগানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো‑অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (OECD) এবং G20 দেশগুলো দুই স্তম্ভের একটি গ্লোবাল কর ব্যবস্থা গঠন করেছিল। প্রথম স্তম্ভে ডিজিটাল সেবা করের নিয়মাবলী নির্ধারিত হয়, আর দ্বিতীয় স্তম্ভে বহুজাতিক সংস্থাগুলোর ওপর সর্বনিম্ন ১৫ শতাংশ কর আরোপের বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে এই গ্লোবাল চুক্তির প্রতি কঠোর অবস্থান নেন, দাবি করেন যে চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে না। তার এই রায়ের পরেও ট্রেজারি বিভাগ আন্তর্জাতিক আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে অব্যাহতির শর্তাবলী নিয়ে কাজ করেছে।

সোমবার ট্রেজারি বিভাগ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সদর দফতরযুক্ত কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্সের আওতায় থাকবে এবং দ্বিতীয় স্তম্ভের কর থেকে অব্যাহতি পাবে। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি উভয় পক্ষের কর সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়; যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক কার্যক্রমে কর নির্ধারণের স্বাধীনতা বজায় রাখবে, আর অন্যান্য দেশগুলো তাদের সীমানার মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কর আরোপের অধিকার রক্ষা পাবে।

এই আপডেটের পূর্বে, জুন মাসে গ্রুপ অব সেভেন (G7) দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। G7-এর ঐ সম্মতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর নীতি ও আন্তর্জাতিক কর কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের ইচ্ছা প্রকাশ পায়।

সেই সময় ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে ট্রাম্পের “ওয়ান, বিগ, বিউটিফুল বিল” থেকে একটি ধারাকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করেন। ঐ ধারাটি “রেভেঞ্জ ট্যাক্স” নামে পরিচিত ছিল এবং এতে বিদেশি মালিকানাধীন সংস্থা ও এমন দেশের বিনিয়োগকারীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের অনুমতি দিত।

বেসেন্টের মতে, ঐ ধারাটি এমন দেশগুলোকে লক্ষ্য করত যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র অবিচারপূর্ণ কর নীতি প্রয়োগকারী হিসেবে গণ্য করত। যদি এই ধারাটি কার্যকর হতো, তবে বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে দ্বিগুণ করের ঝুঁকি ও জটিলতা মোকাবেলা করতে হতো, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারত।

অবশ্যই, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো এখন শুধুমাত্র আমেরিকান কর কাঠামোর অধীনে থাকবে, ফলে দ্বিগুণ করের ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং বৈশ্বিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়বে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতের বড় বহুজাতিক সংস্থাগুলো এই অব্যাহতি থেকে সরাসরি উপকৃত হবে, যা তাদের ক্যাপিটাল ব্যয় ও মুনাফা পূর্বাভাসকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।

অন্যদিকে, অব্যাহতি পেতে চাওয়া দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ কর রাজস্বের সম্ভাব্য হ্রাস মোকাবেলায় নতুন নীতি গড়ে তুলতে পারে। যদিও তারা তাদের সীমানার মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কর আরোপের অধিকার বজায় রাখবে, তবে আন্তর্জাতিক কর সংগ্রহের সামগ্রিক পরিমাণে প্রভাব পড়তে পারে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই চুক্তি শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক সংস্থার শেয়ার মূল্যে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে, এবং বিনিয়োগকারীরা কর সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কমে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়ার ইঙ্গিত পেয়েছেন।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, কোম্পানিগুলোকে এখন নতুন কর রেজিস্ট্রেশন ও রিপোর্টিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, যাতে তারা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্সের আওতায় থাকে। এই প্রক্রিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক কর পরামর্শদাতা ও অডিট ফার্মের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের জন্য অতিরিক্ত ব্যবসা তৈরি করবে।

ভবিষ্যৎ প্রবণতা হিসেবে, OECD সম্ভবত এই অব্যাহতি মডেলকে পুনর্বিবেচনা করে আরও সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। যদি অন্যান্য বড় অর্থনীতির দেশগুলো একই রকম অব্যাহতি চায়, তবে গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্সের একরূপতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। তবে বর্তমান চুক্তি আন্তর্জাতিক কর সমন্বয়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে গ্লোবাল মিনিমাম ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি দেওয়া চুক্তি আন্তর্জাতিক কর নীতির জটিলতা কমিয়ে আনার একটি কূটনৈতিক সমঝোতা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কর সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে এবং অন্যান্য দেশের কর অধিকারকে স্বীকার করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গড়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে এই মডেলটি কীভাবে বিকশিত হবে, তা আন্তর্জাতিক আর্থিক ও নীতি নির্ধারকদের কাছ থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ দাবি করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments