আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের জন্য ‘প্লেয়ার্স টু ওয়াচ’ তালিকা প্রকাশ করেছে। টুর্নামেন্টটি নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত হবে এবং তালিকায় প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তারকা অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব পেয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিজান হোসেন, যাকে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ও ফার্স্ট চেঞ্জ বোলার হিসেবে দলের মূল স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রিজান হোসেনের ব্যাটিং দক্ষতা সাম্প্রতিককালে দৃঢ়তা অর্জন করেছে। যদিও অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে তিনি বিশাল পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিক দুইটি অর্ধশতক এবং ইংল্যান্ড সফরে এক সেঞ্চুরি তার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে। তার স্বপ্ন হল ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসের মতো প্রভাবশালী অলরাউন্ডার হওয়া, এবং দলটি তাকে মিডল অর্ডারে স্থিতিশীলতা ও দ্রুত গতি প্রদানকারী হিসেবে ব্যবহার করবে।
তালিকায় অন্য উল্লেখযোগ্য নাম হল ফয়সাল শিনোজাদা, যিনি সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে মাত্র তিন ইনিংসে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি চমৎকার সেঞ্চুরি তৈরি করেন এবং ২০২৫ সালের শুরুর দিকে একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আরেকটি শতক গড়ে তোলেন। ডানহাতি ব্যাটসম্যান শিনোজাদা ওপেনার অথবা তৃতীয় ক্রমে উভয় অবস্থানে সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
অস্ট্রেলিয়ার তরুণ তীর ছোঁয়া অলিভার পিকও আইসিসির নজরে আছেন। তিনি ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিজয়ী দলে ইনজুরি কভার হিসেবে যোগ দেন এবং সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ভিক্টোরিয়ার প্রথম শ্রেণির দল ও বিগ ব্যাশ লিগে চুক্তি পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন।
ইংল্যান্ডের তরুণ ফারহান আহমেদও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তিনি জাতীয় দলের রেহান আহমেদের ছোট ভাই এবং মাত্র ১৬ বছর বয়সে কাউন্টি ক্রিকেটে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেন। ২০২৪ সালে এক ম্যাচে দশ উইকেট নিয়ে তিনি ১৮৬৫ সালের ডব্লিউ জি গ্রেসের রেকর্ড ভেঙে দেন, যা ক্রিকেটের ইতিহাসে এক মাইলফলক। এই টুর্নামেন্টে তিনি ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, যা তার নেতৃত্বের গুণাবলীকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।
বৈভব সূর্যবংশীর কাহিনীও তালিকায় স্থান পেয়েছে। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি ক্রিকেট জগতে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন এবং তেরো বছর বয়সে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য ডেবিউ করেন। তার দ্রুত অগ্রগতি এবং তরুণ বয়সেই অর্জিত পারফরম্যান্স তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
আইসিসি উল্লেখ করেছে যে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ শিরোপা জয়ী বেশিরভাগ ক্রিকেটারই পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। প্রথমবার ২০০০ সালে যুবরাজ সিং এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, এরপর এডেন মার্করাম, শুবমান গিল এবং নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি টিম সাউদির মতো নামগুলো এই মঞ্চ থেকে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টেও নতুন তারকাদের উন্মোচন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, এবং আইসিসি ‘প্লেয়ার্স টু ওয়াচ’ তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ দল রিজান হোসেনের নেতৃত্বে মিডল অর্ডার ও পেস বোলিংয়ে শক্তিশালী বিকল্প পাবে, আর অন্যান্য দেশের তরুণ তারকাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত গড়ে তুলবে।



