যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে কোনো নতুন ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান অবস্থা ভোটের জন্য উপযুক্ত নয় এবং প্রথমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা প্রয়োজন।
ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা পরিচালনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা অংশ নেবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দলটির প্রত্যেকের নিজস্ব দক্ষতা রয়েছে এবং তারা সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
অন্যদিকে, নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন আদালতে ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেকে দেশের শাসক দাবি করে উপস্থিত হন। মাদুরো আদালতে বলেন, তিনি নির্দোষ এবং ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে তার বাড়ি থেকে অপহৃত হয়েছেন। তিনি নিজেকে “যুদ্ধবন্দি” বলে উল্লেখ করেন এবং সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
মাদুরোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি কোকেন পাচারকারী একটি নেটওয়ার্কের তত্ত্বাবধান করতেন, যা মেক্সিকোর সিনালোয়া ও জেটাস কার্টেল, কলম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহী এবং ভেনেজুয়েলার ট্রেন ডি আরাগুয়া গ্যাংসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। মাদুরো এই অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করে, যুক্তরাষ্ট্রের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা এবং তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলায় একটি জরুরি আদেশ জারি করা হয়, যা নিরাপত্তা বাহিনীরকে নির্দিষ্ট এলাকায় অনুসন্ধান এবং গ্রেফতার করার অনুমতি দেয়। এই আদেশটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
একই সময়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভেনেজুয়েলা বিষয়ক আলোচনায় রাশিয়া, চীন এবং ভেনেজুয়েলার বামপন্থী মিত্র দেশগুলো এই আমেরিকান পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায়। তারা যুক্তি দেয় যে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং দেশের সার্বভৌমত্বের হস্তক্ষেপের ঝুঁকি রয়েছে।
এই ঘটনাগুলো ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চলে প্রভাব বাড়ানোর ইচ্ছার মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের দলীয় পরিকল্পনা এবং মাদুরোর আদালতীয় দাবি উভয়ই দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।
ভেনেজুয়েলায় এখনো কোনো নতুন ভোটের সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি, এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এবং জরুরি আদেশের বাস্তবায়ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
পরবর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দলগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



