গাজীপুরের ‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মিডিয়ার চরিত্রহরণ প্রচেষ্টা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু মিডিয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল কর্মীদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে তাদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
সুরভীর জামিনের সিদ্ধান্তটি গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ‑১, অমিত কুমার দে, সন্ধ্যা ৬টায় দেন এবং প্রায় এক ঘন্টার মধ্যেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। আদালত রিমান্ড আদেশের কয়েক ঘণ্টা আগে তার মুক্তি মঞ্জুর করা হয়।
সুরভীর বিরুদ্ধে প্রথম মামলা গত বছরের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় দায়ের হয়। এরপর ২৫ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকায় তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুরভী ওই এলাকার সেলিম মিয়ার কন্যা, যা তাকে স্থানীয়ভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত করে।
নাহিদের মতে, সুরভীর মতো বহু নেতা, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সক্রিয় ছিলেন, তাদের সম্পর্কে মিডিয়া সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই নেতিবাচক সংবাদ ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে এই নেতাদের চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ইত্যাদি লেবেল দিয়ে জনমত গঠন করা হচ্ছে।
এনসিপি ২০২৪ সালের ৩৬ দিনের আন্দোলনের সময় শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিল। সেই সময় নাহিদ ইসলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করতেন এবং ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।
নাহিদের রাজনৈতিক পটভূমি এবং তার সংগঠনের অভিজ্ঞতা তাকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে সক্ষম করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী গোষ্ঠী দেশের অরাজকতা বাড়াতে চায় এবং তাই মিডিয়ার মাধ্যমে নেতাদের চরিত্রহরণ করা একটি কৌশল।
হাদির হত্যাকাণ্ডের স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। নাহিদের মতে, এই ধরনের গোপন পরিকল্পনা দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি এই ধরনের চরিত্রহরণ প্রচার অব্যাহত থাকে, তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে এই ধরণের প্রচার দলীয় সমন্বয়কে দুর্বল করতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে।
এনসিপি পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মিডিয়ার এই আচরণকে আইনি ভিত্তি ছাড়া চালিয়ে যাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নাহিদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের সময় সক্রিয় ছিলেন এমন নেতাদের সঠিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে জনমত গঠনে ন্যায়সঙ্গততা বজায় থাকে।
সুরভীর জামিনের পর তার পরিবার ও সমর্থকরা টঙ্গীর বাড়িতে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নাহিদের মন্তব্যের পর মিডিয়ার কিছু সংস্থা তাদের রিপোর্টিং পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে।
ভবিষ্যতে, যদি মিডিয়া এবং রাজনৈতিক দলগুলো এই ধরনের চরিত্রহরণ প্রচার বন্ধ না করে, তবে রাজনৈতিক পরিবেশে আরও তীব্রতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময়ে এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে কোনো দল বা গোষ্ঠী ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তন করতে চায়, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নাহিদ ইসলাম মিডিয়ার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের চরিত্রহরণে অভিযুক্ত করে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, এবং সুরভীর সাম্প্রতিক জামিনের পর এই বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক দল ও মিডিয়া উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে, যাতে তথ্যের সঠিকতা বজায় থাকে এবং জনমত গঠনে ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত হয়।



