জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান হাসনাত আব্দুল্লাহ, ৫ জানুয়ারি রাতের ফেসবুক লাইভে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাষ্ট্রযন্ত্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাই বিপ্লবের অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, এই মনোভাবের ফলে বিপ্লবী গোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
হাসনাতের বক্তব্যে শ্রীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পায়। তিনি উল্লেখ করেন, হাদির মামলায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কোনো স্পষ্ট ইচ্ছা সরকারী দায়িত্বশীলদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।
হাদির মৃত্যুর পরপরই ঘটিত অন্যান্য অস্বস্তিকর ঘটনাগুলোকে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপ্লবীদের দমন করার প্রচেষ্টার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। এসব ঘটনার মধ্যে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি, গৃহবন্দি ও হুমকি অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে হাসনাতের সমালোচনা তীব্র। তিনি উল্লেখ করেন, কমিশনের কাজকর্মে স্বচ্ছতার অভাব এবং আইন প্রয়োগে বৈষম্য দেখা যাচ্ছে, যা সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
ডিজিটাল নীতি ও গণমাধ্যমের অবস্থান সম্পর্কেও তিনি তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন। গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট আইডিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া সত্ত্বেও, বিরোধী বা সংস্কারপন্থী গোষ্ঠীর আইডিগুলো নিষ্ক্রিয় করার ক্ষেত্রে সরকার সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে বলে তিনি বলেন।
মিডিয়া ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে কিছু গণমাধ্যমকে সরকারী নীতি অনুসরণকারী ‘সেবাদাস’ হিসেবে দেখা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি মিডিয়া স্বাধীনতার হ্রাস এবং তথ্যের বিকৃতির দিকে ইঙ্গিত করে।
হাসনাত স্পষ্ট করে বলেন, তাদের দল সংস্কারমুখী এবং কোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসন ও ভারতবিরোধী নীতির বিরোধিতা করে। তিনি দেশের নাগরিকদেরকে আসন্ন নির্বাচনে সংস্কারকে সমর্থনকারী শক্তিকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিস্তার এবং নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যাতে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
হাসনাতের মন্তব্যের পর সরকারী পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি জনমত ক্রমশ অসন্তোষজনক হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, যদি রাষ্ট্রযন্ত্রের এই ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকে, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
হাসনাতের বক্তব্যের ভিত্তিতে এনসিপি দল আগামী সপ্তাহে একটি বৃহৎ সমাবেশের পরিকল্পনা করছে, যেখানে তারা সরকারী নীতি ও নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের ওপর প্রশ্ন তুলবে। এই সমাবেশকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে রাষ্ট্রযন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের প্রতি নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। এই উদ্বেগের সমাধান না হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।



