ডেলসি রদ্রিগেস ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, রাজধানী কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের উপরে অজানা ড্রোন উড়ে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের লক্ষ্যবস্তু হয়। ঘটনাটি স্থানীয় সময় রাত আটটায় ঘটেছে এবং প্রাসাদের আশেপাশের বাসিন্দারা এক মিনিটেরও বেশি সময় গুলির শব্দ শুনেছেন। নিরাপত্তা কর্মীরা ড্রোনগুলোকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, ফলে আকাশে একাধিক গুলির ছিটা দেখা যায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী দুই দিন আগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছিল। মাদুরোর গ্রেফতার পর, তার ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেসকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করা হয় এবং শপথের অনুষ্ঠানটি দেশের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়। শপথের পরপরই প্রাসাদের উপরে ড্রোনের উপস্থিতি নিরাপত্তা সংস্থাকে সতর্ক করে দেয়।
ড্রোনের উড্ডয়ন ঘটার সময় প্রাসাদের নিরাপত্তা দল দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলির শব্দ চারদিকে প্রতিধ্বনিত হয়, তবে শনি রাতের মার্কিন সামরিক আক্রমণের তুলনায় তীব্রতা কম ছিল। গুলিবর্ষণ প্রায় এক মিনিট স্থায়ী হয়, যার ফলে প্রাসাদের আশেপাশের এলাকায় সাময়িক অশান্তি সৃষ্টি হয়।
প্রাসাদ থেকে পাঁচ ব্লক দূরে বসবাসকারী একজন বাসিন্দা জানান, গুলির শব্দের ফলে পুরো পাড়া কম্পিত হয় এবং মানুষ জানালার মাধ্যমে আকাশের দিকে তাকিয়ে ড্রোনের উপস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করছিল। তিনি বলেন, অন্ধকার আকাশে দুটি লাল আলো দেখা গিয়েছিল, যা ড্রোনের ইঙ্গিত হতে পারে। আশেপাশের বাসিন্দারা জানালার ফাঁক দিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে চেয়েছিলেন।
ড্রোনের সুনির্দিষ্ট উৎস বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত গুলিবর্ষণ ড্রোনকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়। গুলিবর্ষণের পর প্রাসাদের আশেপাশের এলাকা পুনরায় নিরাপদ বলে ঘোষিত হয় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানায়।
ভেনেজুয়েলা সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এই ঘটনার বিষয়ে তৎক্ষণাত কোনো মন্তব্য করেনি, ফলে তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। তবে সরকারী সূত্রের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।
ড্রোন আক্রমণ এবং গুলিবর্ষণ ঘটনার পর, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেসের শাসনকালে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, ড্রোনের ব্যবহার রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীর সংকেত হতে পারে, তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সরকারী সূত্রের ভিত্তিতে বলা যায়, নিরাপত্তা সংস্থা ড্রোনের সনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যৎ আক্রমণ রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবে।
প্রাসাদে গুলিবর্ষণের পর, নিরাপত্তা কর্মীরা এলাকায় অতিরিক্ত গার্ড স্থাপন করে এবং ড্রোনের সম্ভাব্য রুটগুলো পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। স্থানীয় পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অনুরূপ ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
এই ঘটনার পর, ভেনেজুয়েলা সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে। তবে সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না দিয়ে বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে সমাধান করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
অবশেষে, নিরাপত্তা সংস্থা ড্রোনের উৎস এবং চালকের পরিচয় জানার জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রাসাদ ও রাজধানীর নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি।



