মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভেনেজুয়েলা’র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সিআইএর গোপন বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে দেশের বর্তমান ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেলসি রদ্রিগেজকে প্রধান নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তটি ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়, যেখানে সিআইএ মাদুরোর অনুগত শীর্ষ নেতাদের, বিশেষ করে রদ্রিগেজকে, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য সর্বোত্তম বিকল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সিআইএর গোপন মূল্যায়ন অনুযায়ী, রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করতে এবং দেশীয় বিশৃঙ্খলা রোধে বেশি সক্ষম হবে। এই বিশ্লেষণকে ভিত্তি করে ট্রাম্প মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের ওপর আস্থা রেখে, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর পরিবর্তে রদ্রিগেজকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রাম্পের মতে, মাচাদোর দেশীয় সমর্থন ও স্বীকৃতি যথেষ্ট নয়, ফলে তার নেতৃত্বে দেশকে পরিচালনা করা কঠিন হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট, যদিও সিআইএর নির্দিষ্ট রিপোর্টের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি, তবু জানিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট এবং তার জাতীয় নিরাপত্তা দল বাস্তবিক ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। লেভিটের মন্তব্যের পর ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মাচাদোর ভেনেজুয়েলা’র অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত সমর্থন ও সম্মান নেই, তাই তার নেতৃত্বে দেশকে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
ট্রাম্পের এই অবস্থানকে অনুসরণ করে, রদ্রিগেজ গত সোমবার ভেনেজুয়েলা’র নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পর তিনি ইনস্টাগ্রামে সরাসরি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে শান্তি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেন। রদ্রিগেজের পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকে পারস্পরিক সম্মান ও উন্নয়নের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক, এবং লাতিন আমেরিকাকে যুদ্ধের বদলে শান্তি ও সার্বভৌমত্বের অধিকারী হিসেবে তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের পূর্বে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, যদি মাদুরোর পরবর্তী প্রশাসনের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা না বজায় রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। এই সতর্কতা রদ্রিগেজের শপথ গ্রহণের আগে এবং পরে উভয় সময়ে উল্লেখ করা হয়, যা ভেনেজুয়েলা’র রাজনৈতিক অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা নির্দেশ করে।
মাদুরোর শাসনকালে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের পর, রদ্রিগেজের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসনের গঠন ভেনেজুয়েলা’র অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনকে লক্ষ্য করে। রদ্রিগেজের শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা পুনরায় চালু করার ইঙ্গিত দেন, যা দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা’র বিরোধী গোষ্ঠী, বিশেষ করে মাচাদোর সমর্থকরা রদ্রিগেজের শপথকে বৈধতা না দিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করে। তবে ট্রাম্পের সরকার এই সমালোচনাকে উপেক্ষা করে, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বার্থ ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য রদ্রিগেজকে প্রধান সহযোগী হিসেবে গ্রহণ করেছে।
ভবিষ্যতে রদ্রিগেজের সরকার কীভাবে মাদুরোর নীতি চালিয়ে যাবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠবে, তা ভেনেজুয়েলা’র রাজনৈতিক দৃশ্যপটের মূল দিক হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রদ্রিগেজের শাসনকালে মানবাধিকার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক সংলাপের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করবেন।



