কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছাকাছি সোমবার রাত ৮টায় (স্থানীয় সময়) অজানা ড্রোনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ড্রোনকে লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ গুলিবর্ষণ চালায়, ফলে প্রাসাদের আশেপাশে গুলির শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পরবর্তী একটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ড্রোনের উড্ডয়নের কয়েক ঘণ্টা আগে, দেলসি রদ্রিগেজ interim প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের পরই ঘটনার সূত্র পাওয়া যায়। রদ্রিগেজের শপথের পর প্রায় এক ঘন্টার মধ্যে, রাতের অন্ধকারে ড্রোনগুলো প্রাসাদের উপরে উড়ে বেড়াচ্ছিল। নিরাপত্তা কর্মীরা ড্রোনকে বাধা দেওয়ার জন্য গুলিবর্ষণ চালায়, যদিও গুলির তীব্রতা শনিবারের মার্কিন বিশেষ অভিযান থেকে ভিন্ন ছিল।
গুলির শব্দের প্রতিবেদন শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং বাসিন্দারা এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক গুলির আওয়াজ শুনেছেন। প্রাসাদ থেকে পাঁচ ব্লক দূরে বসবাসকারী এক নাগরিক জানান, গুলির শব্দ পুরো পাড়া জুড়ে ভয় সৃষ্টি করেছে, যদিও তা পূর্বের হামলার তুলনায় তীব্রতা কম ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করেছে বলে জানা যায়।
এই ড্রোন আক্রমণটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। ৩ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান শেষে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। রদ্রিগেজের শপথের পর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, এবং ড্রোনের উপস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।
বিষয়টি নিয়ে ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি, এবং এফপিআইর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়নি। তবে রদ্রিগেজের জন্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তিনি মাদুরোর অনুপস্থিতিতে দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন। ড্রোনের আক্রমণ এবং গুলিবর্ষণ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশের পাশাপাশি, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, নিরাপত্তা বাহিনীর ড্রোন সনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে অনুমান করা হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকায়, সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে অনিরাপদ পরিস্থিতি আরও বাড়ে না।



