আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের শেষ-১৬ ম্যাচে মিশর ও নাইজেরিয়া দুজনেই শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অগ্রসর হয়েছে। মিশরের ম্যাচটি মরক্কোর আগাদিরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তারা বেনিনকে ৩-১ স্কোরে পরাজিত করে। একই সময়ে নাইজেরিয়া মোজাম্বিকের বিপক্ষে দু’গোলের পার্থক্যে জয়লাভ করে।
মিশরের প্রথমার্ধে ৬৯তম মিনিটে মারওয়ান আতিয়া গোল করে দলকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। আতিয়া বক্সের ঠিক বাইরে থেকে শটটি মারেন, যা সরাসরি জালে গিয়ে স্কোর বাড়ায়। এই সুযোগটি মোহাম্মদ হানির পাসের ফলে তৈরি হয়, যিনি আক্রমণাত্মক ত্রিপলকে সঠিক মুহূর্তে সংযুক্ত করেন।
বেনিনের প্রতিক্রিয়া ত্বরিত আসে। ৮৩তম মিনিটে জোডেল দোসো উঁচুতে দাঁড়িয়ে কাছাকাছি থেকে শট মারেন এবং সমতা রক্ষা করেন। এই মুহূর্তে মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি এক চমৎকার প্যালম দিয়ে মোহাম্মদ তিজানির ক্রসকে রোধ করেন, তবে দোসোর শট শেষ পর্যন্ত গলে যায়।
দুটি দলই অতিরিক্ত সময়ে প্রবেশ করে। অতিরিক্ত সময়ের সপ্তম মিনিটে ইয়াসার ইব্রাহিম হেডার দিয়ে মিশরের স্কোরকে আবার বাড়িয়ে দেন। এই গোলটি দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে এবং ম্যাচের গতি তীব্র করে।
অবশেষে ১২৪তম মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ এক দ্রুত দৌড়ে শেষ গলটি করেন, যা মিশরের জয় নিশ্চিত করে। সালাহের এই গোলটি টুর্নামেন্টের তৃতীয় গোল এবং অতিরিক্ত সময়ে দলকে বিজয়ী করে তুলেছে।
মিশরের এই জয় তাদের সপ্তম আফ্রিকান কাপের শিরোপা নিশ্চিত করে, যদিও শেষ শিরোপা ২০১০ সালে অর্জিত হয়। লিভারপুলের তারকা সালাহ এখনো এই প্রতিযোগিতায় কোনো স্বর্ণপদক পাননি, তবে এই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স তাকে শিরোপা জয়ের পথে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচের পর দলের শক্তি ও প্রস্তুতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “খেলায় কোনো সহজ দল নেই, বেনিন কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। মিশর একটি শক্তিশালী দল এবং আমি আমার দেশের মানুষের জন্য গর্বিত হতে চাই।” এই বক্তব্যে তিনি দলের আত্মবিশ্বাস ও জাতীয় গর্বকে তুলে ধরেছেন।
নাইজেরিয়ার ম্যাচে ভিক্টর ওসিমহেন দু’গোলের মাধ্যমে দলকে জয়ী করে তোলেন। ওসিমহেনের এই দু’গোলের পার্থক্য নাইজেরিয়াকে মোজাম্বিকের ওপর দৃঢ় জয় এনে দেয়, যা তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশের নিশ্চিত করে।
মোজাম্বিকের বিরুদ্ধে ম্যাচে নাইজেরিয়া আক্রমণাত্মকভাবে আধিপত্য বিস্তার করে, যদিও বিশদ স্কোর বা অন্যান্য গোলদাতার তথ্য মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তবে ওসিমহেনের দু’গোলের পার্থক্য দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরবর্তী রাউন্ডে প্রবেশের সুযোগ দেয়।
মিশরের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে আইভরি কোস্ট অথবা বার্কিনা ফাসো থাকবে, যা নির্ধারিত হবে শীঘ্রই। এই ম্যাচটি আবার আগাদিরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মিশরের জয়ী দল আবারও শিরোপা জয়ের জন্য লড়াই করবে।
নাইজেরিয়া তাদের জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অগ্রসর হয়েছে, তবে পরবর্তী প্রতিপক্ষের তথ্য মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ না থাকায় তা এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবে দলটি এখনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



