মিডিয়া রিপোর্টের অনুসারে, সোমবার ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনী কমিশন তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সোয়া তুয়াদেরার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করেছে। ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে তুয়াদেরা ৭৬.১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। ভোটার উপস্থিতি ৫২.৪২ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল।
তুয়াদেরা, ৬৮ বছর বয়সী প্রাক্তন গণিতবিদ, আবার দেশের শাসনভার গ্রহণ করবেন। তার পুনর্চয়ন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তার প্রভাবকে আরও দৃঢ় করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বিষয়টি তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল থিম ছিল।
প্রেসিডেন্ট তুয়াদেরা দাবি করেন, রাশিয়ান ভাড়া সেনা ও রুয়ান্ডার বিশেষ বাহিনীর সমর্থনে তিনি দেশের সহিংসতা হ্রাসে সক্ষম হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই বাহিনীর সহায়তা গৃহযুদ্ধের তীব্রতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া, চলতি বছরে তিনি বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
বিরোধী দলগুলো ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করে, ভোটার উপস্থিতি মাত্র অর্ধেকের কাছাকাছি হওয়ায় ফলাফলকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিনিধিত্বমূলক বলা কঠিন। তাছাড়া, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নির্বাচনের সময়ে ভোটারদের অংশগ্রহণকে সীমিত করেছে বলে তারা যুক্তি দেয়।
তুয়াদেরার পুনর্চয়ন দেশের নিরাপত্তা নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে সরকারী সূত্র জানায়। রাশিয়ান ও রুয়ান্ডান বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়কে শক্তিশালী করে তিনি গৃহযুদ্ধের অবশিষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত। এদিকে, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা তুয়াদেরার তৃতীয় মেয়াদকে মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তবে তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘমেয়াদে দেশকে সত্যিকারের শান্তি ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার প্রয়োজন।
নতুন মেয়াদে তুয়াদেরা কী ধরনের নীতি গ্রহণ করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তিনি পূর্বে উল্লেখিত নিরাপত্তা ও শান্তি চুক্তি বিষয়ক পদক্ষেপগুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে আশা করা যায়। তাছাড়া, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুযায়ী, নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ও আইনি প্রক্রিয়া চালু করা প্রয়োজন। তারা তুয়াদেরার শাসনকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের পুনরায় তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছে।
গৃহযুদ্ধের পর থেকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, তবে এখনও কিছু অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়ে গেছে। তুয়াদেরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে ইচ্ছুক।
ভবিষ্যতে তুয়াদেরার শাসনকালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংলাপের মাত্রা কী হবে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। শান্তি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উভয় পক্ষের সমঝোতা প্রয়োজন।
সংক্ষেপে, তুয়াদেরার তৃতীয় মেয়াদে ৭৬ শতাংশের বেশি ভোটে নির্বাচিত হওয়া দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। নিরাপত্তা, শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে তার নীতি গৃহযুদ্ধের পরবর্তী পুনর্গঠনকে গতি দেবে। তবে বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার রক্ষার দাবি শোনা যাবে।
এই নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোতে তুয়াদেরার সরকার কীভাবে দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



