ঢাকা, কদমতলী – ৪ জানুয়ারি রোববার ভোরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য ওয়াসিমকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেরা গোয়েন্দা পুলিশ বলে পরিচয় দিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার whereabouts অজানা। ওয়াসিমের স্ত্রী শারমিন সুলতানা টুম্পা জানান, ওই সময়ে দুজনের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এবং তারা দ্রুত ওয়াসিমকে বের করে নিয়ে যায়।
শারমিন একই দিন কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন, যেখানে তিনি ঘটনার বিবরণ ও সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বর্ণনা দেন। ডায়েরি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা, পুলিশ উপ-পরিদর্শক দেবকুমার দাস জানান, তদন্তের প্রথম ধাপে একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে, তবে স্থানীয় কেউই ওই ব্যক্তিদের চেনেননি।
দেবকুমার দাস আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে তারা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সেনানিবাস ও ধোলাইপাড়া টোল প্লাজার ক্যামেরা রেকর্ড পরীক্ষা করছে, যাতে কোনো অতিরিক্ত দৃশ্য পাওয়া যায়। এই অতিরিক্ত ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করা এবং ওয়াসিমের গমনপথ নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
একজন নিরাপত্তা প্রহরী জানান, তিনি ওয়াসিমকে চার-পাঁচজনের সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখেছেন, তবে প্রহরী ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। প্রহরীর বর্ণনা অনুসারে, ওয়াসিমের সঙ্গে থাকা দলটি স্বাভাবিকভাবে চলছিল, তবে হঠাৎ করে তারা গাড়িতে চড়ে চলে যায়।
কদমতলী থানার ওয়েসি মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জানান, ওয়াসিমের পূর্বে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে বিরোধ গড়ে ওঠে। এই আর্থিক বিরোধই সম্ভবত তাকে গুলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনের কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি কেউ গোয়েন্দা পরিচয় ব্যবহার করে তাকে অপহরণ করে থাকে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কোনো পুলিশ ইউনিট ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার বা আটক করেনি। তার নাম ব্যবহার করে যারা কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালু রয়েছে। শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ঘটনাটি জানার পর কদমতলী থানা ডিবি-কে সময়মতো অবহিত করেনি, যা তদন্তে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
শারমিন টুম্পা সোমবার রাত আটটার দিকে আবার অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে ডিবি পরিচয়ে রূঢ় আচরণে তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধীরা দরজায় এসে দাবি করেছে যে তারা প্রশাসনের লোক, ডিবির লোক এবং দরজা খুলতেই ওয়াসিমের কলার ধরেই তাকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে শারমিনের উদ্বেগ বাড়ে, কারণ এখন পর্যন্ত স্বামীর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
পুলিশ বর্তমানে ওয়াসিমের সন্ধানে বিভিন্ন দিক থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভি রেকর্ডের বিশ্লেষণ, গৃহস্থালীর প্রতিবেশী ও আশেপাশের দোকানদারদের সাক্ষ্য নেওয়া, এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের ট্রেসিং করা হচ্ছে। এছাড়া, গোয়েন্দা বিভাগে নাম ব্যবহার করে অপহরণকারী দলকে চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
অধিক তদন্তে জানা যাবে, ওয়াসিমের গমনপথে কোনো অজানা গাড়ি বা গন্তব্যস্থল চিহ্নিত হয়েছে কি না। পুলিশ জানিয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তার নিখোঁজের জন্য দায়ী প্রমাণিত হয়, তবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, শারমিন টুম্পা ও তার পরিবার এই অনিশ্চয়তার মধ্যে মানসিক চাপের শিকার। তিনি মিডিয়ায় প্রকাশ্যে বলেন, স্বামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি শান্ত থাকতে পারছেন না এবং দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো ওয়াসিমের অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে আপডেট দেওয়া হবে, এবং সংশ্লিষ্ট সকল দিক থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত থাকবে।



