22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঢাকায় এনসিপি আট প্রার্থী, দুইজন কোটিপতি হিসেবে উন্মোচিত

ঢাকায় এনসিপি আট প্রার্থী, দুইজন কোটিপতি হিসেবে উন্মোচিত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর ও জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আটটি আসনে প্রার্থী দাখিল করেছে। তালিকায় দুইজন প্রার্থী আছেন যাদের সম্পদ এক কোটি টাকার উপরে, যা পার্টির আর্থিক প্রোফাইলকে নতুন আলোতে তুলে ধরেছে। প্রার্থীদের নাম, আয়‑সম্পদের বিবরণ এবং পেশা সবই হলফনামায় প্রকাশিত হয়েছে, যা ভোটারদের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে।

এনসিপির আট প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ও সম্পদধারী হলেন ঢাকা‑২০ আসনের প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদ। তার বার্ষিক আয় প্রায় চুয়াল্লিশ লাখ টাকা, আর মোট সম্পদ পাঁচ কোটি টাকার কাছাকাছি। দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন ঢাকা‑৭ আসনের প্রার্থী তারেক আহমেদ আদেল, যিনি একসময় জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন। তার বার্ষিক আয় একচল্লিশ লাখ টাকার কাছাকাছি, এবং সম্পদ চার কোটি টাকার সীমার মধ্যে।

আদেলের আর্থিক বিবরণ হলফনামায় বিশদভাবে উল্লেখ আছে। তার মোট বার্ষিক আয় ৪০,৭৮,১৪৮ টাকা, যার মধ্যে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি থেকে ভাড়া আয় ৩৭,৮৯,৮৫২ টাকা। অবশিষ্ট ২,৬৭,৫৫০ টাকা ব্যবসা থেকে অর্জিত। এই তথ্যগুলো দেখায় যে তার মূল আয়ের উৎস রিয়েল এস্টেট ভাড়া, যা তার সম্পদ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

সম্পদের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে আছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যিনি ঢাকা‑৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা হলেও, নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট সম্পদ প্রায় ছয় লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। পাটওয়ারী এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক, তাই তার আর্থিক অবস্থা পার্টির অভ্যন্তরীণ গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।

নাবিলা তাসনিদের আয়ও উল্লেখযোগ্য; তার বার্ষিক আয় ৪০,০৫,১৭৫ টাকা, যার মধ্যে ৩২,১১,৭৩৫ টাকা সরাসরি চাকরি থেকে আসে। বাকি আয় অন্যান্য উৎস থেকে, যা তার পেশাগত স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে। তাসনিদের সম্পদ পাঁচ কোটি টাকার কাছাকাছি, যা তাকে কোটিপতি তালিকায় স্থান দেয়।

এনসিপির আট প্রার্থীর মধ্যে চারজন ব্যবসা-ভিত্তিক পেশা উল্লেখ করেছেন: নাবিলা তাসনিদ, তারেক আহমেদ আদেল, এস এম শাহরিয়া (ঢাকা‑৫) এবং আরিফুল ইসলাম (ঢাকা‑১৮)। আরিফুল ব্যবসার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতার কাজও করেন। বাকি চারজনের পেশা ভিন্ন; মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া (জাবেদ রাসিন) আইনজীবী এবং ঢাকা‑৯ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্য দুই প্রার্থীর পেশা তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও, হলফনামায় তাদের পেশাগত পটভূমি উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিপি সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীসহ বারোটি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। এই সমঝোতা পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে, যার ফলে গত দশ দিনে অন্তত পনেরোজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। সমঝোতার শর্তে কিছু আসন ভাগাভাগি করা হবে, যা পার্টির কৌশলগত অবস্থানকে পরিবর্তন করতে পারে।

প্রতিটি প্রার্থী তাদের হলফনামায় আয়‑সম্পদের বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে জমা দেওয়া হয়েছে। এই স্বচ্ছতা ভোটারদেরকে প্রার্থীর আর্থিক স্বাস্থ্যের সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দেয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, কোটিপতি প্রার্থীদের উপস্থিতি এনসিপির নির্বাচনী প্রচারণায় আর্থিক সম্পদের ভূমিকা তুলে ধরবে। তবে একই সঙ্গে পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং সমঝোতা নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতা ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। আগামী সপ্তাহে প্রার্থীদের প্রচারাভিযান তীব্র হবে, এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তে এই আর্থিক তথ্যের প্রভাব কী হবে তা দেখা বাকি।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments