বাংলাদেশের অন্ডার‑১৯ ক্রিকেট দল সোমবার সকালে জিম্বাবুয়েতে রওনা হয়েছে, যেখানে ১৫ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ১৬তম আইসিসি অন্ডার‑১৯ বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টটি জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া দুই দেশে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হবে, এবং দলটি এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত।
দলটি গত দুই বছরে ঘরোয়া ও বিদেশি পর্যায়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, মোট ৩০টিরও বেশি ম্যাচের খেলায় অংশগ্রহণের পর এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম তামিম জানান। তিনি বলেন, “আমরা সব দিক থেকে প্রস্তুত, এখন মাঠে সঠিকভাবে পারফর্ম করা গুরুত্বপূর্ণ।”
দলটির প্রধান শক্তি একক দিকেই সীমাবদ্ধ নয়; তামিম উল্লেখ করেন যে, এশিয়া কাপের সময় ২৮৪ রানের চমকপ্রদ চেজ সফলভাবে সম্পন্ন করা তাদের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা দেখিয়েছে। তাছাড়া, বোলিং বিভাগও ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, এবং সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটিং লাইন‑আপের উন্নতি স্পষ্টতই লক্ষ্য করা যায়।
২০২৪ সালের এশিয়া কাপ জয় এবং পরবর্তী সিরিজগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের পরেও, শেষ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে একমাত্র হারের পরাজয় দলকে কিছুটা চিন্তায় ফেলেছিল। তামিমের মতে, “আমরা সব সিরিজ জিতেছি, শেষ এশিয়া কাপ ছাড়া, যেখানে এক ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়েছি। এখন সব খেলোয়াড়ই ফিট।” এই বিবৃতি দলটির বর্তমান ফিটনেস ও প্রস্তুতির ওপর আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে।
দলটির বেশ কিছু খেলোয়াড় জাতীয় লিগের ময়মনসিংহ বিভাগে চমৎকার পারফরম্যান্সের পর অন্ডার‑১৯ দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তামিম জোর দিয়ে বলেন, “ডোমেস্টিক ক্রিকেট আমাদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা দেয়। জাতীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে একসাথে খেলা আমাদের গেমের মান উন্নত করে, যা বিশ্বকাপে কাজে লাগবে।”
জিম্বাবুয়ের পিচ ও আবহাওয়া শর্তগুলো প্রায়ই দেশের অভ্যন্তরীণ পিচের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তামিমের মতে, এই শর্তগুলো আমাদের ব্যাটিং ও বোলিং উভয়েরই পরীক্ষা নেবে, কারণ জিম্বাবুয়ের উচ্চতা ও তাপমাত্রা ভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। তাই দলটি স্থানীয় শর্তের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে প্রস্তুত।
টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে তাদের গ্রুপের প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, এরপর গ্রুপের অন্যান্য দুই দলকে পরাজিত করে সেমি‑ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্য থাকবে। গ্রুপের শেষ ম্যাচের পর ফলাফল নির্ভর করবে নেট রেট এবং নেট রান রেটের ওপর, যা টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্যাপ্টেন তামিমের শেষ মন্তব্যে তিনি দলের মনোভাব ও লক্ষ্যকে সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন: “আমরা এখানে শিরোপা জয়ের জন্য এসেছি, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” এই আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টিভঙ্গি দলকে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের অন্ডার‑১৯ দল এখন জিম্বাবুয়ের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পৌঁছেছে এবং টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখবে। দলটি স্থানীয় শর্তে প্রশিক্ষণ সেশন চালিয়ে যাবে, যাতে ম্যাচের দিনগুলোতে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা যায়। বিশ্বকাপের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত দলটির পারফরম্যান্স দেশের তরুণ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



