জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মোস্তফা হাসান সোমবার (৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে বিস্তারিত নির্দেশনা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও ঐতিহাসিক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে; ভোটগ্রহণ সকাল ৮:৩০ টা থেকে বিকেল ৩:০০ টা পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে ও তার পারিপার্শ্বিক এলাকায় উপস্থিত সকল ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে নতুন ভোটগ্রহণের অনুমতি থাকবে না।
প্রার্থীদের জন্য বিশেষ সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী তার নিজ বিভাগের কেন্দ্রে নয়, অন্য কোনো কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে না, এবং ভোটদান শেষ হওয়ার পর নিজ কেন্দ্রেও পুনরায় প্রবেশের অনুমতি নেই। এই নিয়মের উদ্দেশ্য হল ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।
ভোটের পর প্রতিটি কেন্দ্রে আলাদা ভাবে গণনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তৎক্ষণাত ফলাফল ঘোষণা করবেন, এবং সব কেন্দ্রের ফলাফল একত্রিত করে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবে। গণনার জন্য মোট ছয়টি ইলেকট্রনিক মেশিন ব্যবহার করা হবে, যা দ্রুত ও নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে তিন স্তরের সুরক্ষা প্রয়োগ করা হবে। পুরো ক্যাম্পাস ও প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে, এবং তিনটি ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে ভোটের লাইভ স্ট্রিম ফেসবুকে সম্প্রচার করা হবে। এই ব্যবস্থা ভোটগ্রহণের সময় রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণকে সম্ভব করবে।
কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য মোট ৩৮টি কেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে ১৬৬টি ভোটিং বুথ স্থাপন করা হবে। হল সংসদের জন্য ১২টি কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট বুথ নির্ধারিত হয়েছে। এই কাঠামো অনুযায়ী ভোটারদের সহজে প্রবেশ ও ভোটদান নিশ্চিত করা হবে।
ভোটারদের প্রবেশের পথ স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটের মাধ্যমে প্রবেশ করবে এবং ভোটদান শেষে ২ ও ৩ নম্বর গেট থেকে বের হবে। এই ব্যবস্থা গেটের ভিড় কমিয়ে নিরাপদ প্রবাহ বজায় রাখবে।
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ভিন্ন প্রবেশের নিয়ম রয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ের আগে ২ নম্বর গেটের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন এবং আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রমাণ করবেন। জরুরি অবস্থা ব্যতীত ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ থাকবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, এই নির্দেশনা অনুসরণ করলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা দিক থেকে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল অংশগ্রহণকারী এই নিয়ম মেনে চললে নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
ভোটের ফলাফল দ্রুত জানাতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা কেন্দ্রে তৎক্ষণাৎ ফলাফল প্রকাশ করবেন, এবং পরে সব কেন্দ্রের ফলাফল একত্রিত করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত হবে। এই পদ্ধতি ভোটারদের সময়মতো তথ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা দেবে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সব দিক সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যাতে কোনো অনিয়ম বা অস্বাভাবিক ঘটনা না ঘটে। ক্যাম্পাসের সিসিটিভি, ডিজিটাল বোর্ড ও লাইভ স্ট্রিমিং সবই এই লক্ষ্যকে সমর্থন করবে।
অবশেষে, ভোটারদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: ভোটের দিন সময়মতো গেটের মাধ্যমে প্রবেশ করুন, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করুন। আপনার অংশগ্রহণই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের মূল ভিত্তি।



