ডেল কোম্পানি এই বছর সিইএস (কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো)-এ এক্সপিএস (XPS) সিরিজের নতুন ল্যাপটপ উপস্থাপন করেছে। গত বছর ডেল তার সব পিসি ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে একক নামকরণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল, যার ফলে এক্সপিএস সিরিজের নামও বাদ পড়ে যায়। তবে বাজারে শেয়ার হ্রাসের পর ডেল পুনরায় এক্সপিএস ব্র্যান্ডকে সক্রিয় করে এবং নতুন মডেল চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রকাশিত মডেলগুলো হল এক্সপিএস ১৪ এবং এক্সপিএস ১৬। উভয় মডেলেই পূর্বের ডিজাইনের তুলনায় ব্যবহারিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কীবোর্ডে ঐতিহ্যবাহী ফাংশন রো যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে আগে সূর্যালোকে কাজ না করা ক্যাপাসিটিভ বাটন ব্যবহার করা হতো। ট্র্যাকপ্যাডের ক্ষেত্রে “ইনভিজিবল” ডিজাইন বজায় রাখা হলেও, এখন এর চারপাশে হালকা বর্ডার যোগ করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারী স্পষ্টভাবে ট্র্যাকপ্যাডের সীমানা অনুভব করতে পারে।
ডিজাইনের পরিবর্তনের ফলে উভয় মডেলের ওজন ও পুরুত্ব কমেছে। এক্সপিএস ১৪ বর্তমানে প্রায় তিন পাউন্ড (১.৩৬ কেজি) ওজনের, যা পূর্বের মডেলের তুলনায় অর্ধ পাউন্ড হালকা। এক্সপিএস ১৬-এর ওজন ৩.৬ পাউন্ড (১.৬৩ কেজি), যা এক পাউন্ড কম। নতুন চেসিসের আকার মাইক্রোসফটের সারফেস ল্যাপটপের সূক্ষ্ম ডিজাইনের কাছাকাছি, তবে এটি ডেলকে আলাদা করে না।
প্রসেসর হিসেবে ইন্টেলের নতুন প্যান্থার লেক কোর আল্ট্রা সিরিজ ৩ চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। এই চিপগুলো উচ্চ পারফরম্যান্স এবং এনার্জি দক্ষতা প্রদান করে, যা পেশাদার কাজ এবং গেমিং উভয় ক্ষেত্রেই উপযোগী। ডিসপ্লে অপশন হিসেবে OLED প্যানেলও উপলব্ধ, যা উজ্জ্বল রঙ এবং গভীর কালো রঙের গুণমান নিশ্চিত করে।
ব্র্যান্ডের পরিচয় স্পষ্ট করার জন্য নতুন মডেলগুলোর উপর এক্সপিএস লোগো স্পষ্টভাবে মুদ্রিত হয়েছে, যেখানে পূর্বে ডেল নামটি প্রধানত দেখা যেত। এই পরিবর্তনটি ডেল এক্সপিএসকে একটি স্বতন্ত্র উচ্চমানের ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার ইঙ্গিত দেয়।
ডেল এছাড়াও এক্সপিএস ১৩ মডেলের পুনরায় প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা বছরের শেষের দিকে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্সপিএস সিরিজের এই পুনর্জাগরণ ডেলকে পিসি বাজারে পুনরায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডেল এক্সপিএসের পুনরায় চালু হওয়া এবং নতুন মডেলগুলোর বৈশিষ্ট্য প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উচ্চমানের হার্ডওয়্যারকে আরও ব্যবহারিক এবং সাশ্রয়ী করে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে এই ল্যাপটপগুলো ব্যবসা, সৃজনশীল কাজ এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।



