দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৭ বছর বয়সী জেসন প্রেটোরিয়াস তার মায়ের হত্যার মামলায় বিচার শুরু হওয়ার অপেক্ষায় দু’বছরেরও বেশি সময় কাটাচ্ছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তার ৪৩ বছর বয়সী মা চার্লেনকে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়, যা পুলিশ লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অপরাধীর গ্রেফতার করা হলেও এখনো কোনো শুনানি হয়নি; আদালতে ধারাবাহিকভাবে দেরি ও স্থগিতের কারণে মামলাটি অগ্রসর হয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকান বিচারব্যবস্থা বর্তমানে বিশাল ব্যাকলগের সম্মুখীন, যেখানে হাজার হাজার মামলা অপেক্ষমাণ। আদালতের দায়িত্বভার অতিরিক্ত হওয়ায় কিছু অভিযুক্তের জন্য চার বছর পরের ট্রায়াল তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, যা “বিলম্বিত ন্যায়বিচার হল ন্যায়বিচার না হওয়া” নীতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি জনগণের আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দেয়, বিশেষত উচ্চ অপরাধ হারযুক্ত দেশে।
চার্লেনের মৃত্যু ঘটার পর থেকে জেসনের জীবনে ধারাবাহিক কষ্টের ছায়া রয়েছে। তিনি তার মায়ের স্মৃতিকে সর্বদা স্নেহপূর্ণ ও দয়ালু হিসেবে বর্ণনা করেন; তিনি পরিবারকে সুখী রাখতে সর্বদা চেষ্টা করতেন। তার মায়ের মৃত্যুর পর জেসন কল সেন্টার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন এবং এখন তার স্ত্রী, নবজাতক শিশুর পাশাপাশি ছোট বোন ও দাদীর আর্থিক দায়িত্বও তার ওপর নিক্ষিপ্ত হয়েছে, কারণ তার মা পূর্বে এইসবকে সমর্থন করতেন।
মামলাটির দেরির কারণ হিসেবে আদালত রেকর্ডে বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু দেরি ঘটেছে অপর্যাপ্ত তদন্ত রিপোর্টের অভাবে, অন্যদিকে কিছু দেরি হয়েছে বিচারকের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক সমস্যার ফলে। এই সব দেরি জেসনের মানসিক ও আর্থিক অবস্থাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি স্থগিত তার মাকে আবার হারানোর মতো অনুভূতি জাগায় এবং তিনি শীঘ্রই মামলাটি সমাপ্তি দেখতে চান।
অভিযুক্ত ব্যক্তি দুই বছর ধরে জেলখানায় রয়েছে, তবে এখনো কোনো আদালতীয় শুনানি হয়নি। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, মামলাটির বিভিন্ন পর্যায়ে পুনরায় তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়ু বাড়িয়ে দিয়েছে। জেসন জানান, মামলাটি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তার পরিবারের জন্য কোনো সান্ত্বনা আসবে না; তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত এবং শোকের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক দায়িত্বের বোঝা বহন করছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকান বিচারিক ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা এবং এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী দেরি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিকদের আস্থার উপর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার দ্রুত না হলে সামাজিক ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি সন্দেহ বাড়ে। জেসনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যক্তিগত ক্ষতি ও জাতীয় আইনি সমস্যার সংযোগ কীভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে।
জেসন প্রেটোরিয়াসের পরিবার এখনো মামলার চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আদালত দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং মামলাটি শেষ হবে, যাতে তার পরিবার শোকের পরেও পুনরুদ্ধার করতে পারে। তার মতে, ন্যায়বিচার না হলে শোকের কোনো শেষ নেই এবং পরিবারকে আরাম পেতে সময়ের প্রয়োজন।
এই মামলাটি দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান বিচারিক ব্যাকলগের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বহু অপরাধের শিকারদের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার ও বিচারিক সংস্থাগুলোর জন্য জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দেরি কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যাতে শিকারের পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা ও কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।



