ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর, নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের শীর্ষ নির্বাহী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানটি সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয় এবং রদ্রিগেজকে দেশের সর্বোচ্চ শাসনক্ষমতা প্রদান করে।
মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অপহরণ ঘটনার পর, দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা দ্রুত পূরণ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সংবিধানিক বিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি, তা সাময়িক হোক বা স্থায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের পদে উত্তোলন করে। এই নীতিমালা ২৩৩ ও ২৩৪ ধারা দ্বারা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত।
শপথ গ্রহণের সময় দেলসি রদ্রিগেজকে শপথ বাক্য পাঠ করলেন তার বড় ভাই জর্জ রদ্রিগেজ, যিনি বর্তমানে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের (পার্লামেন্ট) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শপথের পর রদ্রিগেজের দায়িত্বের পরিধি সংবিধানিকভাবে সীমাবদ্ধ না থেকে, তিনি একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী এবং তেলমন্ত্রীর দায়িত্বও বজায় রেখেছেন।
ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টও রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে, যা তার শাসনক্ষমতা আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করে। আদালতের এই নির্দেশনা সংবিধানিক ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশের শাসন কাঠামোকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
শপথের কয়েক ঘণ্টা পরই রদ্রিগেজ জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের একটি জরুরি বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকে মন্ত্রিসভা সদস্য, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল মাদুরো দম্পতির অবিলম্বে মুক্তি নিশ্চিত করা এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা।
বৈঠকে রদ্রিগেজ স্পষ্টভাবে মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং তাদের আটককে অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
একই সময়ে রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বহিরাগত সামরিক অভিযান ভেনেজুয়েলার সংবিধানিক শাসন ও জাতীয় স্বায়ত্তশাসনের ওপর সরাসরি আঘাত হানে এবং তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এই মন্তব্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
দেলসি রদ্রিগেজের রাজনৈতিক প্রোফাইলের মধ্যে বেসরকারি খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রতি আনুগত্য উল্লেখযোগ্য। ৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজকে ব্যবসা জগতে তার নেটওয়ার্কের জন্য পরিচিত করা হয় এবং তিনি পূর্বে অর্থ ও তেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এই পটভূমি তাকে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নীতি নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম করে।
মাদুরো দম্পতির অপহরণ এবং রদ্রিগেজের শাসন গ্রহণের ফলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। সংবিধানিক ধারার ভিত্তিতে স্বাভাবিক শাসনক্রম বজায় থাকলেও, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, রদ্রিগেজের শাসনকাল সংবিধানিক শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের দিকে কেন্দ্রীভূত হবে। একই সঙ্গে, মাদুরো দম্পতির মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টের প্রধান হিসেবে জর্জ রদ্রিগেজের ভূমিকা শপথ অনুষ্ঠানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা শাসন কাঠামোর মধ্যে পারিবারিক সমন্বয়কে নির্দেশ করে। যদিও সংবিধানিকভাবে স্বয়ংক্রিয় উত্তোলন, তবে ভাইদের মধ্যে সমন্বয় শাসনকে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে চালাতে সহায়তা করবে।
আসন্ন দিনগুলোতে রদ্রিগেজের সরকারকে জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, মাদুরো দম্পতির মুক্তি নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এই চ্যালেঞ্জগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ শাসন ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার সুযোগও প্রদান করবে।
সংবিধানিক ধারার ভিত্তিতে রদ্রিগেজের শাসন গ্রহণের প্রক্রিয়া দেশের আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা হুমকি এবং আন্তর্জাতিক চাপের সম্মুখে তার নেতৃত্বের কার্যকারিতা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



