সেল্টিক ক্লাবের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ৭৩ বছর বয়সী মার্টিন ও’নিল আবার দলকে নেতৃত্ব দেবেন। এই সিদ্ধান্তটি ক্লাবের এই সিজনে ইতিমধ্যে চারটি ম্যানেজার নিয়োগের পর নেওয়া হয়েছে, যা সমর্থকদের মধ্যে বিশাল হতাশা সৃষ্টি করেছে।
সেল্টিক স্কটল্যান্ডের শীর্ষ স্তরে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আধিপত্য বজায় রেখেছে এবং আর্থিক সম্পদ ও পরিকল্পনা ক্ষমতায় অন্যান্য ক্লাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে। তবুও এই মৌসুমে চারজন কোচের ঘূর্ণন ঘটেছে, যা কৌশলগত দিকনির্দেশের অভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
সর্বশেষে উইলফ্রেড ন্যান্সি নামের কোচকে নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় চল্লিশ দিন স্থায়ী হয়। ন্যান্সি ক্লাবের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুতই পদত্যাগ করেন; তার মেয়াদ মাত্র তেইশ দিন চলার পরই শেষ হয়।
ন্যান্সির যোগ্যতা নিয়ে বিশ্লেষক ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, তিনি সেল্টিকের মতো বড় ক্লাবের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের রেকর্ড থেকে দূরে ছিলেন। তার ট্যাকটিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গি সীমিত বলে বিবেচিত হয় এবং স্কটল্যান্ডের মাঝারি শক্তির দলেও তিনি প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে পারেননি।
দলীয় শীর্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে ন্যান্সি সম্পর্কে সন্দেহের সুর শোনা গিয়েছে, যা তার শুরুর দিন থেকেই স্পষ্ট ছিল। এই অবিশ্বাসের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং মাঠে পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।
ন্যান্সির সময়কালে সেল্টিকের গুরুত্বপূর্ণ দুই পজিশন—সেন্টার-ফরোয়ার্ড ও সেন্টার-ব্যাক—নিয়োগে অগ্রগতি হয়নি। রেঞ্জারসের সঙ্গে আসন্ন ম্যাচের আগে এই ঘাটতি পূরণ করা হতো, তবে তা সম্ভব হয়নি।
এই নিয়োগের ব্যর্থতা ক্লাবের পরিচালনাগত সমস্যার গভীরতা প্রকাশ করে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি ও অপ্রতুল পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
পল টিসডেল, যিনি ফুটবল অপারেশনসের প্রধান হিসেবে কাজ করছিলেন, তাও ক্লাব থেকে বেরিয়ে যান। টিসডেলের ক্যারিয়ার মূলত এক্সেটারের মতো নিম্ন লিগের ইংরেজি ক্লাবের ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত, যা সেল্টিকের মতো বড় ক্লাবের জন্য উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
টিসডেল ও ন্যান্সির প্রস্থানের ফলে সমর্থকদের মধ্যে কোনো বড় আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি; উভয়ই ক্লাবের বর্তমান অস্থিরতার স্বাভাবিক ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বোর্ডের মুখে ন্যান্সি বিষয়ক হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি ভক্তদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া হয়নি। ফলে সমর্থক গোষ্ঠী ক্লাবের পারফরম্যান্স, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং নির্বাহী স্তরের বিশৃঙ্খলা নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ প্রকাশ করছে।
মার্টিন ও’নিলের পুনরায় আসা সেল্টিকের জন্য একটি স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার পূর্ববর্তী মেয়াদে ক্লাবকে বহু ট্রফি এনে দিয়েছে, এবং তার জনপ্রিয়তা এখনও ভক্তদের মধ্যে উচ্চ।
তবে ও’নিলের ফিরে আসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব সমস্যার সমাধান করবে না; সমর্থকরা এখনো স্পষ্ট কৌশল ও ধারাবাহিক নেতৃত্বের দাবি করছেন।
সেল্টিকের রেঞ্জারসের সঙ্গে আসন্ন ম্যাচটি নতুন ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর হতে পারে তা পরীক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ম্যাচের ফলাফল ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শীর্ষ পর্যায়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
এরপরের লিগ ম্যাচগুলোও ক্লাবের বর্তমান অবস্থার স্থায়িত্ব যাচাই করবে। যদি ধারাবাহিকভাবে ফলাফল না আসে, তবে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল পুনর্বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াবে।
সারসংক্ষেপে, সেল্টিকের দ্রুত ম্যানেজার পরিবর্তন, ন্যান্সির সংক্ষিপ্ত মেয়াদ এবং টিসডেলের প্রস্থান ক্লাবের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। এই পরিস্থিতি সমাধান না হলে, স্কটল্যান্ডের শীর্ষ ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী আধিপত্যের উপর প্রশ্ন চিহ্ন উঠতে পারে।



