যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে দেশগুলো তীব্র বিরোধের মুখোমুখি হয়েছে। বৈঠকে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ চুক্তির লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করে, একই সঙ্গে মাদুরোর শাসনকে অবৈধ ও দমনমূলক হিসেবে উল্লেখ করে।
অনেক সদস্য দেশ মাদুরোর শাসনকে বৈধতা ছাড়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে, এবং ভেনেজুয়েলীয় জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও জাতিসংঘের নীতিমালা লঙ্ঘন বলে গণ্য করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ পদক্ষেপের জন্য বিপজ্জনক পূর্বদৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ফ্রান্স সবচেয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। ফ্রান্সের উপদূত দূত জে ধার্মধিকরী যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে “শান্তিপূর্ণ বিরোধ সমাধানের নীতি ও বলপ্রয়োগ না করার নীতির বিরোধী” বলে উল্লেখ করেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের দায়িত্বকে ক্ষুণ্ন করে এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার ভিত্তি দুর্বল করে।
ডেনমার্কের উপদূত দূত স্যান্ড্রা জেনসেন ল্যান্ডি দেশের “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করে, এবং বলেন যে বর্তমান বিকাশ একটি বিপজ্জনক পূর্বদৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ চুক্তি সর্বদা মান্য করা উচিত, অন্যথায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইউরোপীয় সমালোচনার তীব্রতা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়লেও, যুক্তরাজ্য ও গ্রীসের কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে সরাসরি নিন্দা করেননি। এই পার্থক্য ইউরোপের অভ্যন্তরে নীতি-ভিত্তিক বিভাজনকে প্রকাশ করে, যেখানে কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়, অন্যরা তা অবৈধ বলে চিহ্নিত করে।
পানামার প্রতিনিধি এলয় আলফারো দে আলবা যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যেখানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করার কথা বলা হয়েছে, তবে বিরোধী দল বা নতুন নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো স্থায়ী সরকার গঠন করা যদি দমনমূলক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না।
সামগ্রিকভাবে, নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বায়ত্তশাসনের প্রতি আঘাত হিসেবে দেখা হয়েছে। ভবিষ্যতে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পরিণতি স্পষ্ট না হয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও কঠোর নীতি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে, যেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এই জরুরি বৈঠক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের বৈধতা ও পরিণতি নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে, যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে আন্তর্জাতিক আদালত ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হতে পারে, যা ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখবে।



