প্রেস উইংের এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সরকার সরস্বতী পূজা, ২১ ফেব্রুয়ারি, মে দিবস, বুদ্ধপূর্ণিমা, পবিত্র আশুরা, শুভ জন্মাষ্টমী, মধু পূর্ণিমা এবং শুভ মহালয়ার মতো ধর্মীয় ও জাতীয় ছুটি বাতিল করেনি। এই ছুটিগুলোকে বাতিল বলে প্রচারকারী তথ্যের সূত্রগুলোকে সরকার ভুল দাবি হিসেবে খণ্ডন করেছে। ছুটির তালিকায় না থাকলেও, সেগুলো সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়নি, এটাই মূল ব্যাখ্যা।
ফেসবুকের একটি পোস্টে বলা হয়েছিল যে, সরকার এই ছুটিগুলোকে রদবদল করেছে এবং তা বিভিন্ন বাংলাদেশি ও ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেস উইংের বিবৃতি স্পষ্ট করে জানায় যে, এই ধরনের দাবি ভিত্তিহীন এবং বাস্তবে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সরকার জানিয়েছে যে, ছুটিগুলো সাপ্তাহিক বিশ্রামের দিনে পড়ে, ফলে আলাদা করে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।
প্রেস উইংের মুখ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, একই পরিস্থিতি গত দুই বছরে ঘটেছে, যখন সরকারি ছুটি সাপ্তাহিক বিশ্রামের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল। সেই সময়েও অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়নি, ফলে ছুটির সংখ্যা পরিবর্তিত হয়নি। এই প্রক্রিয়াটি সরকারী রুটিনের অংশ এবং কোনো নতুন নীতি পরিবর্তন নয়।
সরকারি দফতরগুলোতে প্রকাশিত ছুটির তালিকায় এই ধর্মীয় ও জাতীয় দিনগুলোকে আলাদা করে উল্লেখ করা হয় না, কারণ সেগুলো ইতিমধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় হয়েছে। ফলে কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম পায়, কোনো অতিরিক্ত ছুটি প্রদান করা হয় না। এই পদ্ধতি পূর্বে দুই বছর ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছুটির বাতিলের দাবি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। সরকার এই ভুল তথ্যের প্রভাব কমাতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গুজবের পুনরাবৃত্তি রোধে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা হবে।
প্রেস উইংের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার সবসময়ই ছুটির নীতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়। ধর্মীয় ও জাতীয় ছুটির ক্ষেত্রে কোনো অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন না করে, সাপ্তাহিক বিশ্রামের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। এই পদ্ধতি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করে।
এই ঘোষণার পর বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থা সরকারী ব্যাখ্যা পুনরায় প্রকাশ করেছে এবং পূর্বে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যকে সংশোধন করেছে। সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়া অশুদ্ধ তথ্যের ফলে সৃষ্ট উদ্বেগের মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ছুটির তালিকায় পরিবর্তন না থাকলে, কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো কার্যকরী ব্যাঘাত ঘটবে না। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে যাওয়া দিনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্রামের দিন হিসেবে গণ্য হয়, ফলে অতিরিক্ত ছুটি প্রদান করা প্রয়োজন হয় না।
অতএব, সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ছুটির বাতিলের দাবি ভিত্তিহীন এবং বাস্তবিক কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। প্রেস উইংের স্পষ্টীকরণে এই বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারী ছুটির তালিকা প্রকাশের সময় এই ধরনের ভুল ধারণা না তৈরি হয় তা নিশ্চিত করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, এই স্পষ্টীকরণ সরকারী তথ্যের প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। ছুটির নীতি নিয়ে কোনো বিতর্ক না থাকায়, প্রশাসনিক কাজকর্মে স্বাভাবিকতা বজায় থাকবে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা কমাতে, সরকার দ্রুত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এই পদক্ষেপটি তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ সালের ধর্মীয় ও জাতীয় ছুটিগুলো বাতিল হয়নি; সেগুলো সাপ্তাহিক বিশ্রামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আলাদা তালিকায় না থাকলেও, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে ছুটি পাবে। সরকার এই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়ে গুজবের বিস্তার রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে।



