সোমবার, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পুত্র নিকোলাস মাদুরো গুইরা, তার বাবা ও স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান দুই দিন পর জাতীয় পরিষদে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীর এই কাজ তার পিতাকে ‘অপহরণ’ করেছে এবং দেশের সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ লঙ্ঘন।
মাদুরো গুইরা উল্লেখ করেন, ক্যারাকাসে পরিচালিত এই আক্রমণ কোনো একক দেশের বিষয় নয়; যদি কোনো রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাকে এভাবে অপহরণ করা স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে বিশ্বের যে কোনো দেশই নিরাপদ থাকবে না। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রিত হয়ে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের মুক্তির জন্য নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব পালন করতে আহ্বান জানান।
বক্তৃতায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করেন এবং সতর্ক করেন, এমন ঘটনা ভবিষ্যতে কোনো দেশকে লক্ষ্য করতে পারে, বিশেষ করে যারা বশ্যতা স্বীকার করতে অস্বীকার করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ঘটনাটিকে আঞ্চলিক বিরোধের বাইরে, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার এবং সমান সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
আবেগপূর্ণ স্বরে মাদুরো গুইরা জোর দেন, নিকোলাস মাদুরো, সিলিয়া ফ্লোরেস এবং পুরো ভেনেজুয়েলার প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি এখন কেবল শিষ্টাচার নয়, বরং নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, এই ধরনের লঙ্ঘনের মুখে নীরবতা মানে অপরাধীদের সমর্থন, যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে মাদুরো, তার স্ত্রী এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে; মাদুরো গুইরার নামও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। মাদুরো গুইরা এসব অভিযোগকে কঠোরভাবে অস্বীকার করে, দাবি করেন যে তার পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা ও নিরপরাধ হিসেবে নির্যাতন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই অভিযোগগুলো পরিকল্পিতভাবে তার সরকারকে অপরাধী চিত্রে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা, এবং উপস্থাপিত প্রমাণগুলো ভিত্তিহীন। মাদুরো গুইরা যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সরাসরি আক্রমণ।
ভেনেজুয়েলা সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানকে অবৈধ বলে নিন্দা করে, দ্রুতই নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তি ও তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দাবি জানায়। সরকার জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অপরাধীকে দায়ী করার দাবি তুলে ধরে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ল্যাটিন আমেরিকায় বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে।
পরবর্তী কয়েক দিন থেকে কূটনৈতিক আলোচনার তীব্রতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তৃতীয় দেশগুলোকে মধ্যস্থতা করার আহ্বান জানানো হবে, যাতে দুই দেশের মধ্যে বিরোধের সমাধান এবং আটক নেতাদের মুক্তি নিশ্চিত করা যায়।
একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের উপর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভেনেজুয়েলায় মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ বাড়তে পারে। এই প্রক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি ও জনমতও প্রভাবিত হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নিকোলাস মাদুরো গুইরার জাতীয় পরিষদে বক্তব্য ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করে, যেখানে আন্তর্জাতিক সংহতি ও আইনি দায়িত্বের আহ্বান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের প্রত্যাখ্যান দুটোই স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমঝোতা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ এবং সম্ভাব্য বহুপাক্ষিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের পথ খোঁজা হবে।



