সিডনির গ্লেনফিল্ডে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডের ওপেনিং ব্যাটসম্যান জেমি স্মিথ ৪৬ রানে আউট হন। তার শেষ শটটি অস্ট্রেলিয়ার বোলার মার্নাস লাবুশেনের দ্রুত শর্ট বলের ওপর খেলা হয় এবং বিশ্লেষকরা এটিকে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে বাজে শটগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
স্মিথের ইনিংস ৭৬ বলে গঠিত ছিল, যার মধ্যে একটি ছক্কা ও ছয়টি চারের সীমা ছিল। তিনি রুটের সঙ্গে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছিলেন। ২২ রানে তিনি ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচে আটকে গিয়েছিলেন, তবে গ্রিন সহজে ক্যাচটি সম্পন্ন করে তাকে নিরাপদে রেখেছিলেন।
মার্নাস লাবুশেনের ১২৯ কিমি/ঘণ্টা গতির শর্ট বলের ওপর স্মিথ অফ‑সাইডে শট মারতে চেষ্টা করেন। শটটি তার হাতে না গিয়ে অফ‑স্টাম্পের বাইরে উড়ে যায় এবং স্কট বোল্যান্ড গভীর ফিল্ডে তা ধরতে সক্ষম হন। এভাবে স্মিথের ইনিংস শেষ হয় এবং তিনি ৪৬ রানে আউট হন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার এই শটকে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে অযৌক্তিক শটগুলোর একটি বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই সিরিজে এমন শটের ঘটনা প্রথমবার নয়, এবং এটি সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক।” ল্যাঙ্গার স্মিথের পূর্বের ভাগ্যকে তুলনা করে বলেন, “একবার ক্যামেরন গ্রিনের নো‑বলে সহজ ক্যাচে তাকে রক্ষা করা হয়েছিল, কিন্তু এবার তিনি নিজেরই ভুলে নিজেকে আউট করে ফেলেছেন।”
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইশা গুহা, যিনি কায়ো স্পোর্টসে ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন, স্মিথের শট দেখে হতবাক হন। তিনি বললেন, “স্মিথ, তুমি কী করেছ? লাঞ্চের ঠিক আগে মার্নাস লাবুশেনের ব্রেকথ্রু বলের ফলে অস্ট্রেলিয়াকে আরেকটি উইকেট উপহার দেওয়া হলো।” গুহা উল্লেখ করেন যে লাবুশেনের এই শটের আগে সিরিজে অস্ট্রেলিয়া কয়েকবার ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানকে উইকেট উপহার দিয়েছে।
শটের পর লাবুশেন উল্লাসে মাতেন এবং তার ১৪তম টেস্ট উইকেটের আনন্দ ভাগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্রিট লির, যিনি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, লাবুশেনের এই পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “লাবুশেনের ধারাবাহিক শর্ট বলের আক্রমণই আজকের ফলাফল এনেছে, যদিও শটটি অফ‑স্টাম্পের বাইরে ছিল, তবু তিনি স্মিথকে আউট করতে সফল হয়েছেন।”
স্মিথের আউট হওয়ায় রুটের সঙ্গে গড়ে তোলা ৯৪ রানের অংশীদারিত্ব ভেঙে যায় এবং অস্ট্রেলিয়ার বলার ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়। উভয় দলের খেলোয়াড়দের মনোভাব পরিবর্তিত হয় এবং ম্যাচের গতিপথে নতুন মোড় আসে।
স্মিথের আউটের পর তৎক্ষণাৎ উম্পায়ার লাঞ্চ বিরতি ঘোষণা করেন, ফলে দু’দলই বিশ্রাম নিতে পারে। লাঞ্চের সময় গুহা আবার শটের বিশ্লেষণ করেন এবং লাবুশেনের বোলিং পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন।
জেমি স্মিথ, ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান, এই ইনিংসে ৪৬ রানে ৭৬ বল ব্যবহার করে ১টি ছক্কা ও ৬টি চারের সীমা অর্জন করেন। তার এই পারফরম্যান্সটি সিরিজের শেষ টেস্টে শেষ হয়, তবে তার অংশীদারিত্ব ও শটের বিশ্লেষণ এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টের ফলাফলই সিরিজের সমাপ্তি নির্ধারণ করবে। এই ম্যাচের পর আর কোনো টেস্ট ম্যাচ নির্ধারিত নেই, ফলে উভয় দলই সিরিজের ফলাফলে মনোনিবেশ করবে।
সারসংক্ষেপে, স্মিথের ৪৬ রানে আউট এবং লাবুশেনের শটকে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে অযৌক্তিক শটগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঘটনা সিরিজের শেষ টেস্টে উভয় দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



