ইন্ডিয়ার যুব একদল দক্ষিণ আফ্রিকাকে মুখোমুখি হয়ে যুব ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সুরিয়াভানশি প্রথম বলেই আক্রমণাত্মক স্বর দেখালেন। প্রথম বল লেগ বাই থেকে এক রান নিলেন আরন জর্জ, তৎক্ষণাৎ দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মারলেন সুরিয়াভানশি এবং তৃতীয় বলেই আরেকটি ছক্কা। পরের দুই ওভারে প্রতিটি ওভারে দু’টি ছক্কা যোগ হয়ে তিনি মাত্র ২১ বলের মধ্যে দশটি ছক্কা রেকর্ড করলেন।
পঞ্চম ওভারে তিনি দুইটি ওয়াইড দিয়ে বলকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন, আর ষষ্ঠ ওভারে আরেকটি ছক্কা যোগ হল। এভাবে ২৪ বলের মধ্যে তিনি ৬৮ রান সংগ্রহ করে ২৮৩.৩৩ স্ট্রাইক রেট অর্জন করলেন, যার মধ্যে ১০টি ছক্কা ও একটি চারে।
অষ্টম ওভারের শুরুর ১৮ বলের মধ্যে তিনি ৪৫ রান যোগ করলেন, তবে বোলার বায়ান্ডা মাজোলা তৃতীয় বলেই তিনটি ছক্কা এবং চতুর্থ বলেই চারটি রান দিলেন। পরের ওভারের প্রথম বলেই সুরিয়াভানশি একক দিয়ে আউট হয়ে গেলেন, ফলে তার ইনিংস শেষ হল।
এই পারফরম্যান্সে সুরিয়াভানশি ১৯ বলের মধ্যে ফিফটি পৌঁছিয়ে যুব ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি রেকর্ড করলেন। পূর্বে দ্রুততম ফিফটি ২০ বলের মধ্যে ছিল, আর কেবল দুইজনই তার চেয়ে কম বলেই ফিফটি করেছেন – স্টিভ স্টক (১৩ বল) ও রিশাভ পান্ত (১৮ বল)।
সুরিয়াভানশি যুব ওয়ানডেতে দ্রুততম সেঞ্চুরির প্রথম দুটোও নিজেরই। গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫২ বলের সেঞ্চুরি এবং গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৫৬ বলের সেঞ্চুরি তিনি সম্পন্ন করেন। একই সিরিজে তিনি ৯৫ বলে ১৭১ রান করে ১৪টি ছক্কা মারেন, যা যুব ওয়ানডে রেকর্ড।
সিনিয়র ক্রিকেটেও তিনি বহু রেকর্ড গড়েছেন। আইপিএল-এ সেঞ্চুরি করার পর তিনি বিশ্বের শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নাম রেকর্ডে যুক্ত করেন। সাম্প্রতিক ভিজয় হজারে ট্রফিতে ৮৪ বলে ১৯০ রান করে তিনি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হয়েছেন। এছাড়া তিনি ৫৯ বলে দেড়শ (১৫) ছক্কা মারার মাধ্যমে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেন।
সুরিয়াভানশি ১৫ বছরের কম বয়সে যুব ওয়ানডে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অল্প বয়সে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তিনি ব্যাট হাতে ১১ রানের বেশি করে দলকে নেতৃত্ব দেন। তার এই ধারাবাহিকতা ও রেকর্ডগুলো তাকে দেশের শীর্ষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান দিয়েছে এবং দুদিন পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় শিশু পুরস্কার পেয়ে সম্মানিত হন।
ইন্ডিয়ার কোচ টিমের মন্তব্যে বলা হয়েছে, সুরিয়াভানশির আক্রমণাত্মক স্বভাব ও উচ্চ স্ট্রাইক রেট দলকে শক্তিশালী শুরুর সুযোগ দিয়েছে। পরবর্তী ম্যাচে ভারত আবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে মুখোমুখি হবে, যেখানে সুরিয়াভানশির ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের পরীক্ষা হবে।



