ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন জো রুট সিডনিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৬০ রান করে শতক সম্পন্ন করেছেন। এই পারফরম্যান্স তার টেস্ট ক্যারিয়ারের একবিংশ শতক এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার ৪১তম শতক।
রুট ২৪২ বলের ওপর ৩৯৮ মিনিট ব্যাটিং করে ১৫টি চতুর্থি মারেন। তার দীর্ঘস্থায়ী ইনিংসের গতি ও স্থায়িত্ব তাকে অস্ট্রেলিয়ান পিচে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ অবস্থান দেখিয়েছে।
এই শতক তাকে একক সিরিজে সর্বোচ্চ শতক করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে নিয়ে এসেছে। এছাড়া, ৪৫ শতক সম্পন্ন করে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান জ্যাক ক্যালিসের পরে সর্বোচ্চ শতকধারী অলরাউন্ডারদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।
সাচিন তেন্ডুলকারের ৫১টি শতক রেকর্ডের তুলনায় রুটকে মাত্র এগারোটি শতক বাকি। তেন্ডুলকারের মোট রান ১৫,৯২১ থেকে রুট প্রায় এক হাজার রানের পার্থক্যে আছেন, যা তার বয়স ৩৫ বছর বিবেচনা করলে ভাঙা সম্ভব বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন কোচ ড্যারেন লেহম্যান রুটের পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেছেন, রুট একবার শতক পেলেই তিনি ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্র্যাডম্যানের পরে স্থান পাবেন। লেহম্যান আরও যোগ করেন, রুটের ধারাবাহিকতা তাকে তেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙতে এবং আরও বেশি শতক করতে সক্ষম করবে, কারণ তিনি এখনও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ ফিট।
রুটের পূর্বের অস্ট্রেলিয়া সফরগুলোতে তিনি ১৪ টেস্টে কোনো শতক করেননি, যা সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সিডনিতে এই শতক তার সেই শূন্যতা পূরণ করেছে এবং তার আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
শ্রেণিবদ্ধ সিরিজের প্রথম টেস্টে পার্থে রুট ০ ও ৮ রান করে আউট হন, এরপর ব্রিজবেনে দ্বিতীয় টেস্টে ১৩৮ রান অক্ষত রেখে শেষ করেন। তবে পরের পাঁচ ইনিংসে তিনি কোনো পঞ্চাশের পারফরম্যান্স করতে পারেননি, যা তাকে কিছুটা হতাশ করেছে।
সিডনিতে ফিরে এসে রুটের শতক তার ধারাবাহিকতা পুনরুদ্ধার এবং দলকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দিতে সহায়তা করেছে। তার ব্যাটিংয়ে দেখানো স্থিতিশীলতা ও আক্রমণাত্মক শটগুলো অস্ট্রেলিয়ান পিচে তার মানসিক শক্তি প্রকাশ করে।
ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া সফর এখনও চলমান, এবং রুটের শতক দলকে পরবর্তী টেস্টে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মুখোমুখি হতে সাহায্য করবে। কোচিং স্টাফ রুটের ফর্মকে ধারাবাহিক রাখার জন্য প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা ও কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবে।
এই শতক রুটের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা তাকে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তেন্ডুলকারের রেকর্ড ভাঙা এবং শতক সংখ্যা বাড়ানোর পথে তার অগ্রগতি এখন স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরবর্তী ম্যাচে ইংল্যান্ড আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে, এবং রুটের পারফরম্যান্স দলকে শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার শতক ধারাবাহিকতা এবং কৌশলগত মানসিকতা ভবিষ্যৎ টেস্ট সিরিজের ফলাফল নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হবে।



