ময়মনসিংহ শহরের বাইপাস এলাকায় সোমবার বিকালে মো. রাশিক খান শুষান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পরিচালিত মোবাইল আদালত এক ডিলারকে ১৩০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডারকে ২৬০০ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগে ১০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ডিলারটি নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ দরে গ্যাস বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে এবং যথাযথ মূল্য তালিকা ও ভাউচার প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ রোধ এবং গ্যাস সরবরাহের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
অভিযানটি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়, যেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাশিক খান শুষান সরাসরি 현장 পরিদর্শন করেন। তিনি ডিলারদের স্টক পর্যালোচনা করে দেখেন যে, বাজারে গ্যাসের সরবরাহের তুলনায় মজুদ অতিরিক্ত রয়েছে, যা কৃত্রিম সংকটের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে, ডিলারদের কাছে মূল্য তালিকা না থাকা এবং ভাউচার দেখাতে অক্ষমতা রেকর্ড করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট রাশিক খান শুষান উল্লেখ করেন, ডিলাররা নির্ধারিত মূল্যের দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত দরে গ্যাস বিক্রি করে গ্রাহকদের আর্থিকভাবে চাপ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ ভোক্তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি করে এবং বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাকে বিকৃত করে। তদন্তে দেখা যায়, ডিলারদের গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে, যা সরবরাহের ঘাটতি নয়, বরং মুনাফা বাড়ানোর উদ্দেশ্য নির্দেশ করে।
অন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নূর লিয়া, যিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আরেক সদস্য, তিনি ডিলারদের পূর্বে বহুবার সতর্ক করার পরেও গ্যাস সরবরাহে অবহেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অভিযানে ডিলারদের গুদাম থেকে সরাসরি গ্যাসের প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেখায় যে তারা বাজারে গ্যাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং মূল্য বাড়িয়ে বিক্রি করছে।
ওমেরা ও পেট্রোম্যাক্সের ডিলার সুশান্ত কুমার, যিনি গ্যাসের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য প্রকাশ করেছেন, তিনি বলেন ১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩০৬ টাকায় ক্রয় করে ১,৩২৬ টাকায় বিক্রি করেন, ২৫ কেজি সিলিন্ডার ২,৫৪৭ টাকায় ক্রয় করে ২,৫৭৮ টাকায় বিক্রি করেন, ৩৫ কেজি সিলিন্ডার ৩,৫৫৮ টাকায় ক্রয় করে ৩,৫৯৩ টাকায় বিক্রি করেন এবং ৪৫ কেজি সিলিন্ডার ৪,৫৭৫ টাকায় ক্রয় করে ৪,৬৩১ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের কাছে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই; যদি দাম বাড়ে তবে তা খুচরা বিক্রেতাদের দায়িত্ব।
সুশান্ত কুমার আরও উল্লেখ করেন, তাদের কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির ইচ্ছা নেই। তিনি বলেন, পূর্বে গ্যাস প্রতিদিন সরবরাহ হতো, কিন্তু এখন দুই থেকে তিন দিন পরপর সরবরাহ হয়, ফলে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে গ্যাস পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থায়ী ব্যাঘাতের ইঙ্গিত দেয়, তবে ডিলাররা এটিকে বাজারের স্বাভাবিক চক্র হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্যাসের দাম দ্বিগুণে বৃদ্ধি গ্রাহকদের দৈনন্দিন ব্যয় বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষত গৃহস্থালী ও ছোট ব্যবসার জন্য এটি বড় আর্থিক চাপের কারণ। উচ্চ মূল্যের ফলে গ্যাসের বিক্রয় পরিমাণ কমে যায়, যা শেষ পর্যন্ত বিক্রেতা ও সরবরাহকারী উভয়েরই আয় হ্রাসের দিকে নিয়ে যায়। অতএব, স্বল্পমেয়াদে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করা হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।
নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের দামের অতিরিক্ত বৃদ্ধি এবং মজুদ সঞ্চয় গ্যাস বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি করে। সরকারী দিক থেকে মূল্য তালিকা, ভাউচার এবং স্টক রেকর্ডের বাধ্যতামূলক প্রকাশনা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভোক্তারা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ক্রয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মোবাইল আদালতের জরিমানা একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে, তবে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া দামের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা বিবেচনা করলে, গ্যাস সরবরাহ চেইনে স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়তে পারে, যেখানে রিয়েল-টাইম মূল্য ও স্টক তথ্য প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, সরকারী মূল্য নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা বাড়বে, যাতে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়। ডিলারদের জন্য সঠিক মূল্য নির্ধারণের নির্দেশিকা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হলে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
সারসংক্ষেপে, ময়মনসিংহে গ্যাসের দামের অনিয়মিত বৃদ্ধি ও মজুদ সঞ্চয় নিয়ন্ত্রণের জন্য মোবাইল আদালতের জরিমানা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস বাজারের স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন। এই ধরনের ব্যবস্থা ভোক্তাদের সুরক্ষা ও বাজারের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।



