20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনমার্টি সুপ্রিম: ১৯৫২ নিউইয়র্কের গলি ও টেবিল টেনিসের গল্পে জোশ সাফডির নতুন...

মার্টি সুপ্রিম: ১৯৫২ নিউইয়র্কের গলি ও টেবিল টেনিসের গল্পে জোশ সাফডির নতুন প্রচেষ্টা

নিউইয়র্কের ১৯৫২ সালের গলিতে বসবাসরত এক দারিদ্র্যপূর্ণ টেবিল টেনিস খেলোয়াড়ের স্বপ্নকে কেন্দ্র করে জোশ সাফডি তার সর্বোচ্চ বাজেটের প্রথম ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র ‘মার্টি সুপ্রিম’ প্রকাশ করেছেন। চলচ্চিত্রটি গৃহস্থালি বিশদ ও গলির পরিবেশকে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সেই সময়ের বাস্তবতা তুলে ধরতে চায়।

সাফডি পূর্বে তার ভাই বেনি সাফডির সঙ্গে ‘হেভেন নোজ হোয়াট’, ‘গুড টাইম’ এবং ‘আনকাট জেমস’ মত কঠোর বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন, যা তাকে স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তবে এই প্রকল্পে তিনি একা পরিচালনা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, কারণ দুজনের পেশাগত পথ কয়েক বছর আগে আলাদা হয়ে গিয়েছিল।

‘মার্টি সুপ্রিম’ সাফডির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাজ, পাশাপাশি তার প্রথম পিরিয়ড ফিল্মও বটে। ১৯৫২ সালের নিউইয়র্কের গলির দৃশ্যপট পুনর্নির্মাণের জন্য তিনি বিশদ গবেষণা ও বিশাল সেট তৈরি করেছেন, যাতে দর্শকরা ঐ সময়ের শহুরে জীবনের স্বাদ পায়।

প্রোডাকশন ডিজাইনার জ্যাক ফিস্কের সঙ্গে প্রথম আলোচনায় সাফডি গৃহস্থালি বর্জ্যের চেহারার ওপর জোর দেন। ফিস্ককে নিখুঁতভাবে গড়ে তোলার জন্য তিনি বলেছিলেন, “গৃহস্থালি বর্জ্যই শহরের জীবনের সূক্ষ্মতা প্রকাশ করে।” ফলে সেটে প্রতিটি কুঁচি, গাছের ডাল এবং গলিতে ছড়িয়ে থাকা খাবারের অবশিষ্টাংশকে যত্নসহকারে সাজানো হয়েছে।

সেটের প্রতিটি কোণে ছোটখাটো বিশদ যোগ করা হয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, গলির পাশে গাজরের কুঁচি ছড়িয়ে রাখা হয়েছে, যদিও ক্যামেরায় তা স্পষ্ট দেখা যায় না, তবে অভিনেতারা তা অনুভব করে পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকতা আনে। এই সূক্ষ্মতা সাফডির মতে মানব জীবনের অপ্রতুলতা ও অনিয়মকে তুলে ধরার একটি উপায়।

চিত্রনাট্যের মূল চরিত্র মার্টি, একটি দারিদ্র্যপূর্ণ টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, যে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্ন দেখে, তার মানসিক অবস্থা ও সামাজিক সংগ্রামকে চলচ্চিত্রের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার যাত্রা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে সাফডি আধুনিক সমাজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ব্যর্থতার দ্বন্দ্বকে তুলে ধরতে চান।

সাফডির টেবিল টেনিসের সঙ্গে পারিবারিক সংযোগ রয়েছে; তার পূর্বপুরুষরা এই খেলায় অংশ নিয়েছেন, ফলে ছোটবেলায় তিনি নিজেও টেবিল টেনিসে আগ্রহী ছিলেন। তিনি স্বীকার করেন, তার অতিরিক্ত সক্রিয়তা (ADD) তাকে এই খেলায় মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে, যা চলচ্চিত্রের মূল থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বোনের সঙ্গে পেশাগত বিচ্ছেদের পর সাফডি একা পরিচালনা দায়িত্ব নেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তার ভাই বেনি একই বছরে ‘দ্য স্ম্যাশিং মেশিন’ শিরোনামের চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে, যা তাদের স্বতন্ত্র সৃজনশীল দিককে আলাদা করে দেখায়।

‘মার্টি সুপ্রিম’ শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া নাটক নয়; এটি ১৯৫০-এর দশকের নিউইয়র্কের সামাজিক কাঠামো, গৃহস্থালি পরিবেশ এবং মানবিক দুর্বলতাকে একত্রে উপস্থাপন করে। সাফডি এই কাজের মাধ্যমে তার পূর্বের কঠোর বাস্তবধর্মী শৈলীর সঙ্গে নতুন ঐতিহাসিক পটভূমি যুক্ত করে নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছেন।

চলচ্চিত্রের সেটে ব্যবহৃত গৃহস্থালি বর্জ্য ও গলির বিশদ, পাশাপাশি টেবিল টেনিসের প্রতিযোগিতামূলক দৃশ্য, দর্শকদেরকে অতীতের এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাফডি নিজে উল্লেখ করেছেন, এই প্রকল্পে তিনি মানবিক ত্রুটির সূক্ষ্মতা ও নিখুঁততার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে চেয়েছেন।

‘মার্টি সুপ্রিম’ মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। সাফডির নতুন শৈলী, ঐতিহাসিক পটভূমি এবং ব্যক্তিগত স্মৃতির মিশ্রণ চলচ্চিত্রকে একটি উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মে রূপান্তরিত করতে পারে, যা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের জন্যও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments