সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে তৎক্ষণাৎ ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মুক্তি দিতে আহ্বান জানিয়ে একটি তীব্র প্রতিবাদ জানায়। নেবেনজিয়া যুক্তি দেন, ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বিশ্বে নতুন নব্য-উপনিবেশবাদের সূচনা করতে পারে। তিনি এই পদক্ষেপকে “সশস্ত্র আগ্রাসন” বলে বর্ণনা করে, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি-প্রয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক আধিপত্য বিস্তারের ইঙ্গিত হিসেবে উপস্থাপন করেন।
রাশিয়ার প্রতিনিধির মতে, মাদুরো বৈধভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি না দিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায়বিচার নীতির ক্ষতি হবে। নেবেনজিয়া উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বকে আঘাত করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিগুলোর প্রতি অবহেলা প্রকাশ করে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি ও পরিবেশকে এমনভাবে বর্ণনা করেন, যা নব্য-উপনিবেশবাদের উত্থানকে ত্বরান্বিত করছে।
নেবেনজিয়া আরও উল্লেখ করেন, দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে উপনিবেশবাদের বিরোধিতা করে আসছে এবং রাশিয়ার এই অবস্থান তাদের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। রাশিয়া দাবি করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের হস্তক্ষেপমূলক নীতি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভারসাম্যকে গুরুতরভাবে নষ্ট করছে।
বক্তব্যের শেষ অংশে নেবেনজিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বৈত মানদণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের বিষয় নিয়ে রাশিয়ার সমালোচনা করে জাতিসংঘের সনদে স্বাক্ষর করা দেশগুলো ভেনেজুয়েলা সমস্যায় নীরবতা বজায় রাখলে তা চরম ভণ্ডামির পরিচয় দেয়। রাশিয়ার দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ন্যায়বিচার ও সমতা নীতির প্রতি এক ধরণের অবহেলা।
এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনা উস্কে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সমর্থকরা রাশিয়ার মন্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলে খণ্ডন করতে পারে, তবে রাশিয়া স্পষ্ট করে বলেছে যে, মাদুরোর মুক্তি না হলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শান্তি হুমকির মুখে পড়বে। ভবিষ্যতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোর মুক্তি না করে, তবে রাশিয়া এবং অন্যান্য দেশ নিরাপত্তা পরিষদে আরও কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করতে পারে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, রাশিয়ার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা বাড়াবে। মাদুরোর অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া উভয়ই আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে তীব্র করে তুলবে। এদিকে, ভেনেজুয়েলা সরকার রাশিয়ার সমর্থনে আশাবাদী, কারণ এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। মাদুরোর মুক্তি না হলে, রাশিয়া এবং তার মিত্র দেশগুলো আন্তর্জাতিক ফোরামে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



