22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযৌথ নদী কমিশনের বাংলাদেশ কমিটি পুনর্গঠন, রিজওয়ানা হাসান চেয়ারম্যান

যৌথ নদী কমিশনের বাংলাদেশ কমিটি পুনর্গঠন, রিজওয়ানা হাসান চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৫ জানুয়ারি ঢাকা শহরের গ্রিন রোডে অবস্থিত পানি ভবনে যৌথ নদী কমিশনের (JRC) বাংলাদেশ কমিটির পুনর্গঠনের প্রথম সভা আয়োজন করে। সভায় কমিটির নতুন কাঠামো ও কাজের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্য আলোচনা করা হয়।

কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিযুক্ত হন। তিনি সভার সূচনা করে কমিটির লক্ষ্য ও দায়িত্বের ওপর জোর দেন।

সভায় প্রকৌশলী সদস্য মো. আনোয়ার কাদির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি জলের ব্যবহার, শেয়ারিং ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা বিশদে ব্যাখ্যা করেন।

কমিটি পুনর্গঠনটি গত ১ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং যৌথ নদী কমিশনের প্রকৌশলী সদস্য। উভয়ই জলের সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অবদান রাখবেন।

বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BUET) পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান অংশগ্রহণ করেন। তিনি জলের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

অতীতের সরকারি কর্মী ড. মাহফুজুল হক, যিনি পূর্বে মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন, এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মেহদী হাসানও কমিটিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। তাদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পটভূমি আলোচনায় বহুমুখী দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।

কমিটির পুনর্গঠন মূলত বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক জলের বিষয়ক সমঝোতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। যৌথ নদী কমিশন দুই দেশের মধ্যে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা ও অন্যান্য সীমান্ত নদীর ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করে।

নতুন কমিটি গঠন দিয়ে মন্ত্রণালয় আশা করে যে জলের শেয়ারিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এ ধরনের সমন্বয় ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

কমিটির কাজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে ভারতীয় পার্টনারের সঙ্গে যৌথ বৈঠক নির্ধারণের কথা রয়েছে। এই বৈঠকে জলের প্রবাহ, ড্যাম পরিচালনা ও সেচ প্রকল্পের সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই পুনর্গঠন জলের বিষয়ক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা প্রয়োজন।

কমিটির সদস্যরা একত্রে কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। এ ধরণের সমন্বিত প্রচেষ্টা জলের সম্পদকে টেকসইভাবে ব্যবহার করতে এবং জনগণের কল্যাণে অবদান রাখতে লক্ষ্য রাখবে।

সর্বশেষে, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে পুনর্গঠিত কমিটি নিয়মিতভাবে সভা করবে এবং জলের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্তের রেকর্ড সংরক্ষণ করবে। এভাবে জলের নীতি ও প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments