ডিসেম্বর ২১ তারিখে ফিনিক্সে অনুষ্ঠিত Turning Point USA-র AmericaFest ইভেন্টে নিকি মিনাজের পারফরম্যান্সের পর, Change.org-এ একটি অনলাইন পিটিশন চালু হয়। পিটিশনের লক্ষ্য হল গায়িকা-রাপারকে ট্রিনিডাডে তার জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করা, এবং প্রকাশের পর থেকে প্রায় পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষ এই দাবি সমর্থনে স্বাক্ষর করেছে।
মিনাজ ৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন, তবে ২০২৪ সালে একটি লাইভস্ট্রিমে তিনি জানান যে এখনও তিনি মার্কিন নাগরিক নন। তার এই অবস্থানই পিটিশনের লেখকরা উল্লেখ করে, যে তার পাবলিক প্ল্যাটফর্মের প্রভাব ও দায়িত্ব রয়েছে, এবং সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো তার পূর্বের সমর্থনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। পিটিশনে বলা হয়েছে, ডিপোর্টেশন একটি উদাহরণ হবে যে পাবলিক ব্যক্তিত্বদের কথার জন্য দায়বদ্ধ করা দরকার।
বিলবোর্ড মিডিয়া গায়িকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তবে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পিটিশনে স্বাক্ষরকারীরা মিনাজের টার্নিং পয়েন্ট ও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সহযোগিতার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের শাসনামলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর আইসিই (ICE) রেইড ও ব্যাপক ডিপোর্টেশন চালু হয়, যা এই স্বাক্ষরকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
সাত বছর আগে, মিনাজের পূর্বের অবস্থান ছিল ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতির বিরোধিতা করা। ২০১৮ সালে তিনি ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিবাসী অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, পাঁচ বছর বয়সে দেশে আসার সময়ের কষ্ট ও পিতামাতার বিচ্ছিন্নতার ভয় বর্ণনা করেন। তিনি তখনই অভিবাসী শিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার মন্তব্য ও কার্যক্রমে পরিবর্তন দেখা যায়। টার্নিং পয়েন্টের ইভেন্টে অংশগ্রহণের পর, তার সমর্থক ও সমালোচক উভয়ই তার অবস্থানকে পুনর্মূল্যায়ন করার দাবি তুলেছে। পিটিশনের লেখকরা উল্লেখ করেন, তার এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পূর্বের সমর্থনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি জনমতকে বিভ্রান্ত করছে।
পিটিশনের সমর্থকরা যুক্তি দেন, নিকি মিনাজের মত উচ্চপ্রোফাইল শিল্পীর ডিপোর্টেশন একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হতে পারে, যা দেখাবে যে পাবলিক ব্যক্তিত্বদের কথার সামাজিক প্রভাবের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, তার ট্রিনিডাডে প্রত্যাবর্তন কেবল তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা নয়, বরং অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে, মিনাজের সমর্থকরা তার শিল্পী হিসেবে অর্জিত সাফল্য ও সৃষ্টিকর্মকে তুলে ধরে, তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আলাদা করে দেখার দাবি রাখেন। তারা বলেন, তার সঙ্গীত ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে তিনি বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন, এবং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামতকে তার শিল্পী পরিচয়ের সঙ্গে মিশ্রিত করা উচিত নয়।
এই পিটিশন বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং আরও স্বাক্ষরের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। যদিও ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া জটিল ও আইনি দিক থেকে কঠিন, তবে পিটিশনের মাধ্যমে প্রকাশিত জনমত একটি সামাজিক আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে বিকশিত হবে, তা নির্ভর করবে সরকারী নীতি, আইনি প্রক্রিয়া এবং জনমতের সমন্বয়ের ওপর।
সামগ্রিকভাবে, নিকি মিনাজের ডিপোর্টেশন দাবি একটি নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে শিল্প, রাজনীতি ও অভিবাসন নীতি একসঙ্গে মিলিত হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে আরও বিশ্লেষণ ও আলোচনা প্রত্যাশিত, এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি শোনার প্রয়োজন থাকবে।



