ঝিনাইদাহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলা থেকে এক বিধবা নারীকে দুই পুরুষ ধর্ষণ এবং দুই নারী সহায়তায় নির্যাতন করার অভিযোগে সোমবার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ৩১ ডিসেম্বর ঘটেছে, তবে শিকারের স্বাস্থ্য অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি ৩ জানুয়ারি পুলিশকে জানাতে সক্ষম হন।
মামলাটি কালিগঞ্জ থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. জেলাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে দাখিল করা হয়েছে। শিকারের বিবরণ অনুযায়ী, দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে, তাকে গাছের শিকলে বাঁধে এবং শারীরিক নির্যাতন করে।
অভিযুক্তদের মধ্যে ৫৫ বছর বয়সী শাহিনুর ইসলাম, ৪৫ বছর বয়সী হাসান, ৩০ বছর বয়সী রূপালী খাতুন এবং ২৫ বছর বয়সী মোসাম্মত মুকতা অন্তর্ভুক্ত, যাঁরা সকলেই আরপাড়া গ্রাম থেকে। ইতিমধ্যে হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকি তিনজনের গ্রেফতার কার্যক্রম চলমান।
থানা তদন্তকারী ইন্সপেক্টর মোফাজ্জেল হক জানান, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে শিকারের ওপর আক্রমণ চালায়। শিকারের পরিবারকে একটি ঘরে আটকে রাখার পর, শিকারকে অন্য ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিকারকে তার পরিবারের সঙ্গে বাইরে টেনে নিয়ে গিয়ে গাছের শিকলে বাঁধা হয় এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার করা হয়।
শিকার দুই বছর আগে এই এলাকায় একটি বাড়ি কিনে বসবাস শুরু করেন। তিনি জানান, বাড়ি কেনার পর থেকে শাহিনুর ইসলাম তার ওপর বারবার অশ্লীল মন্তব্য ও আর্থিক দাবি করে আসছেন। শিকারের মতে, এই দাবিগুলি বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।
অভিযোগের রাতে শিকারের দুজন আত্মীয় বাড়িতে আসেন। তখনই শাহিনুর ও হাসান জোরে বাড়িতে ঢুকে শিকারকে তার আত্মীয়দের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করে। আত্মীয়দের একটি ঘরে আটকে রাখার পর, শিকারকে অন্য ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এরপর শিকারকে তার আত্মীয়দের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের করে গাছের শিকলে বাঁধা হয় এবং নির্যাতনের শিকার করা হয়।
স্থানীয় মানুষ শিকারকে রক্ষা করে এবং দ্রুত তাকে ঝিনাইদাহ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। হাসপাতালে শিকারের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি গুরুতর শারীরিক ও মানসিক আঘাতের শিকার।
থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ জেলাল হোসেন উল্লেখ করেন, শিকারের দেরি করে অভিযোগ দায়েরের কারণ তার হাসপাতালে ভর্তি থাকা। তিনি জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে, এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আদালতে শিকারের সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট পক্ষের অধিকার রক্ষার জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



