বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সোমবার জানিয়েছে যে, দলকে আগামী মাসে ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ট২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে পাঠাতে তারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে অনিচ্ছুক। এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশকে ভারতের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে খেলতে হবে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছে। তবে বিসিবি এই শর্তে আপত্তি তুলেছে এবং আইসিসি-কে চিঠি পাঠিয়ে ম্যাচগুলোকে অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করার অনুরোধ করেছে।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বোর্ডের সব পরিচালক দুইবার বৈঠক করে বিষয়টি গভীরভাবে আলোচনা করেছেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতিমালা।
চিঠিতে বিসিবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, নিরাপত্তা ঝুঁকি তাদের প্রধান উদ্বেগ এবং তাই আইসিসি-কে দ্রুত একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠির কপি আইসিসি-কে ইমেইল মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে এবং উত্তর পাওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই নিরাপত্তা উদ্বেগের পেছনে রয়েছে ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) দলের কলকাতা নাইট রাইডার্সের সিদ্ধান্ত, যেখানে বাঙালি দ্রুতগামী পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মুস্তাফিজুরের মুক্তি আইপিএল চুক্তিতে “ফোর্স মেজ্যুর” ধারা অনুযায়ী করা হয়েছে, যা বলে যে অপ্রত্যাশিত ও অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতিতে চুক্তি বাতিল করা যায়। এই ক্ষেত্রে কোনো আঘাত বা খেলোয়াড়ের স্বেচ্ছা প্রত্যাহার নয়, বরং বেসি সি সি (বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া) এর নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে।
বেসি সি সি কর্তৃক এই নির্দেশনা দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিবেচনা রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানায়। ফলে মুস্তাফিজুরের আইপিএল থেকে অব্যাহতি ক্রীড়া ক্ষেত্রের বাইরে থাকা বিষয়কে স্পর্শ করেছে।
অধিকন্তু, আমিনুল বলেন, দুইবারের বৈঠকের পর বোর্ডের সকল সদস্য একমত যে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিবেশে দলকে ভারতীয় মাটিতে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
বিসিবি চিঠিতে উল্লেখ করেছে যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণগুলোতে সীমান্ত নিরাপত্তা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি অন্তর্ভুক্ত। এসব বিষয়কে বিবেচনা করে তারা আইসিসি-কে বিকল্প ভেন্যু প্রস্তাবের অনুরোধ করেছে।
আইসিসি থেকে উত্তর পাওয়ার পর বিসিবি পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। বর্তমানে আইসিসি-কে পাঠানো ইমেইলের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে এবং তা পাওয়ার পর একটি বৈঠক নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
আইসিসি যদি ম্যাচগুলোকে অন্য দেশে স্থানান্তর করার অনুমতি দেয়, তবে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও লজিস্টিক্সে পরিবর্তন আসবে। অন্যদিকে, যদি অনুমোদন না হয়, তবে বিসিবি কীভাবে দলকে নিরাপদে পাঠাবে তা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা গড়ে তুলতে হবে।
বিসিবি এই মুহূর্তে আইসিসি-কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ম্যাচে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত নয়। এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং টুর্নামেন্টের সামগ্রিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বিসিবি নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে ভারতীয় মাটিতে ট২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে অংশগ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে, আইসিসি-কে চিঠি দিয়ে বিকল্প স্থান চেয়েছে এবং মুস্তাফিজুরের আইপিএল থেকে অব্যাহতি এই সিদ্ধান্তের পেছনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ভবিষ্যতে আইসিসি-র উত্তর এবং ensuing বৈঠকের ফলাফলই নির্ধারণ করবে দলটির পরবর্তী পথ।



