চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক তীব্র যত্ন ইউনিটে (NICU) ১৪ মাসের শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। মোরশেদ নামের এই শিশুটি আজ বিকেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শেষ breaths নিয়েছে। তার মৃত্যুর খবর অ্যানোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার নিশ্চিত করেছেন।
মোরশেদ এবং তার চার বছর বয়সী বোন আয়েশা ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলার অ্যানোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নে এক অচেনা অবস্থায় পাওয়া যায়। সিএনজি চালিত অটো-রিকশা চালক মাহিম উদ্দিন প্রথমে শিশুরা দুজনকে নিজের যত্নে নেন, পরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।
মোরশেদ জন্মের সময়ই শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিল এবং ত্বকের রোগ ও পিঠে পোড়া দাগের মতো বহু স্বাস্থ্য সমস্যার শিকার ছিল। ২৯ ডিসেম্বর তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে জরুরি অবস্থায় ভর্তি করা হয়, তবে অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের NICU-তে স্থানান্তর করা হয়।
NICU-তে বিশেষায়িত চিকিৎসা ও তীব্র পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও শিশুর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতির পথে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসা দল সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শিশুর জীবন রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
আয়েশা বর্তমানে অ্যানোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়েরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার চিকিৎসা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও অ্যানোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের যৌথ তত্ত্বাবধানে চলছে।
শিশুদের বাবা, যিনি বানশখালী উপজেলার মিয়ারবাজারে রিকশা চালক, গত বুধবার অ্যানোয়ারা থানা গিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, তার স্ত্রী ছয় মাস আগে সন্তানসহ বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি ফেসবুকে তাদের ছবি দেখে তাদের অবস্থান জানেন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বাবার দাবিগুলি যাচাই করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
মোরশেদের দেহ তার দাদীর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং খাগড়াছড়ি জেলার মানিকচরি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। দাফন কার্যক্রম পরিবারিক রীতি অনুসারে সম্পন্ন হবে।
শিশুর জন্মগত অক্ষমতা ও ত্বকের রোগের মতো জটিলতা নবজাতকের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও পুষ্টি সহায়তা এই ধরনের শিশুর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
নবজাতক তীব্র যত্ন ইউনিটে শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং পেশী-হাড়ের যত্নসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত সেবা প্রদান করা হয়। তবে গুরুতর জটিলতা ও বহুমাত্রিক রোগের ক্ষেত্রে সাফল্যের হার সীমিত থাকে।
শিশু ত্যাগের ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে যুক্ত। এ ধরনের পরিস্থিতি রোধের জন্য পরিবারকে সমর্থন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশু সুরক্ষা আইন কার্যকর করা জরুরি।
কমিউনিটি সদস্যদের জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, অনাথ বা ত্যাগপ্রাপ্ত শিশুর কোনো লক্ষণ লক্ষ্য করলে তা সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে। পরিবারিক সহায়তা ও সামাজিক সেবার সমন্বয় ভবিষ্যতে অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা কমাতে সহায়তা করবে।



