রবিবার প্রভাত প্রায় ৫:৩০ টায় চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো এলাকার কাছাকাছি একটি সিএনজি চালিত অটো-রিকশা থামিয়ে চারজন অপরিচিত ব্যক্তি দুইটি মোটরসাইকেলে আক্রমণ করে ৩৫টি স্বর্ণের বার চুরি করে। এই স্বর্ণের মোট মূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অভিযুক্তরা অটো-রিকশা থামিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে স্বর্ণের বারগুলোকে শু’তে লুকিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনজন শিল্পী, যাদের নাম সবুজ দেবনাথ, বিবাশ রায় এবং পিন্টু ধর, প্রত্যেকে জোড়া জোড়া স্বর্ণের বার বহন করছিলেন; সবুজ ও পিন্টু প্রত্যেকে ১১টি করে, আর বিবাশ ১৩টি করে। তারা হাজারিগালির মিয়া শপিং মার্কেটের ‘জয়রাম ট্রেডার্স’ নামের গহনা দোকানে কাজ করতেন এবং স্বর্ণটি ঢাকা শহরে পৌঁছে দেওয়ার কাজের জন্য পরিবহন করছিলেন।
অভিযুক্তদের আক্রমণ পরেই শিল্পীরা অটো-রিকশা থেকে নেমে গিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে দ্রুতই পুলিশকে জানাতে বাধ্য হন। সবুজ দেবনাথ সোমবার পঞ্চলাইশ পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে তিনি চারজন অপরিচিত ব্যক্তির নাম না জানিয়ে কেবল তাদের বর্ণনা দিয়েছেন।
পঞ্চলাইশ থানা ওসির (অফিসার ইন চার্জ) আবদুল করিম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সকালবেলায় অটো-রিকশা থামিয়ে চারজন ব্যক্তি স্বর্ণের বার চুরি করেছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছি এবং বিভিন্ন পুলিশ টিমকে কাজের দায়িত্ব দিয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “শিল্পীরা জানান যে স্বর্ণটি হাজারিগালির এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঢাকা শহরে পাঠানোর জন্য ছিল। তাদের কাছে কোনো নথি ছিল কিনা তা এখনো জানার প্রয়োজন।”
অভিযুক্তদের সনাক্তকরণ এবং স্বর্ণের গন্তব্যস্থল নির্ধারণের জন্য পুলিশ এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তদুপরি, স্বর্ণের বারগুলো কীভাবে শু’তে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং কেন অটো-রিকশা ব্যবহার করা হয়েছিল, এসব বিষয় তদন্তের মূল দিক।
শিল্পীদের মতে, স্বর্ণের বারগুলোকে শু’তে লুকিয়ে রাখার কারণ ছিল নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখা, যাতে রাস্তায় কোনো নজর না পায়। তারা ফুলকোলি থেকে সিটাকুন্ডার ভাটিয়ারির দিকে রওনা হওয়ার সময়ই এই চুরি ঘটেছে।
পুলিশের মতে, স্বর্ণের চুরির পরিমাণ এবং মূল্য বিবেচনা করে এই মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তদন্তে জড়িত দলগুলো স্বর্ণের গন্তব্যস্থল, সম্ভাব্য বিক্রয় চ্যানেল এবং অপরাধী দলের পরিচয় নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিসিটিভি রেকর্ড এবং মোবাইল ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শিল্পীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিবরণ অনুসারে, স্বর্ণের মালিকানা সম্পর্কিত নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করা হবে। স্বর্ণের মালিক হাজারিগালির ব্যবসায়ী, যিনি ঢাকা শহরে সরবরাহের পরিকল্পনা করছিলেন, তার নাম ও পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় গহনা ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং স্বর্ণের মতো মূল্যবান পণ্যের পরিবহনকালে সুনির্দিষ্ট রেকর্ড ও অনুমোদন পত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায়, স্বর্ণের চুরি সংক্রান্ত কোনো নতুন তথ্য বা গ্রেফতার হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে। বর্তমানে, স্বর্ণের বারগুলো কোথায় পৌঁছেছে এবং অপরাধী দল কীভাবে তা বিক্রি করবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এই মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং স্বর্ণের মালিকের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে স্বর্ণের নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার জন্য নীতি নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



