ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রেসক্লাব চত্বরে সোমবার সকালেই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) একটি বৃহৎ প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। সমাবেশের মূল দাবি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা‑তে সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অবিলম্বে মুক্তি। সমাবেশে পার্টির জেলা কমিটির বহু নেতা ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষার আহ্বান জানায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড সাজিদুল ইসলাম সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। তার পরবর্তী বক্তৃতা ও আলোচনায় জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড জহিরুল ইসলাম স্বপন, জেলা কমিটির সদস্য কমরেড মোজাম্মেল পাঠান এবং পিসভিশনের সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। প্রত্যেক বক্তা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি‑নির্ধারণের সমালোচনা করেন।
বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসকে গণহত্যা ও সম্পদ লুণ্ঠনের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, ৩ জানুয়ারি রাতের আঁধারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন প্রদেশে বোমা হামলা চালিয়ে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে অপহরণ করেছে। এই দাবির ভিত্তিতে তারা নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
উল্লেখিত অপহরণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বিশেষ করে জাতিসংঘের সনদের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বক্তারা যুক্তি দেন যে, এই ধরনের কর্মের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করা এবং দেশের উপর পূর্ণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
সমাবেশের অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা‑তে সামরিক আক্রমণ, বোমা হামলা এবং অপহরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি স্পষ্ট প্রতিবাদ রেজোলিউশন গ্রহণ করে। রেজোলিউশনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বিষয়টি ত্বরান্বিতভাবে সমাধান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তৃতার পর সমাবেশ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বেরিয়ে আসে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে ঘুরে বেড়িয়ে বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। অংশগ্রহণকারীরা ‘অধিকার, স্বাধীনতা, ন্যায়’ ইত্যাদি শ্লোগান জোরে উচ্চারণ করে এবং ভেনেজুয়েলায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করে।
মিছিল চলাকালীন স্থানীয় প্রশাসন মিছিলকে বাধা না দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ট্র্যাফিক সাময়িকভাবে পুনর্নির্দেশিত করা হয় এবং কোনো প্রতিবাদে হিংসা বা অশান্তি ঘটেনি। স্থানীয় পুলিশ মিছিলের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে উপস্থিত থাকে এবং অংশগ্রহণকারীদের শান্তিপূর্ণ আচরণে প্রশংসা জানায়।
এই প্রতিবাদে দেশের বামপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের বামপন্থী দলগুলো এখনো সক্রিয়ভাবে মত প্রকাশ করছে এবং এ ধরনের প্রতিবাদ তাদের রাজনৈতিক প্রোফাইলকে শক্তিশালী করতে পারে।
সিপিবি এই সমাবেশের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা‑তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। তারা ভবিষ্যতে আরও সমাবেশ, রেলি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি‑নির্ধারণের প্রতি আন্তর্জাতিক নজরদারি বজায় থাকে।
প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে পার্টি নেতৃত্ব উল্লেখ করেছে যে, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বিষয়টি উত্থাপন চালিয়ে যাবে। এছাড়া, তারা দেশের অন্যান্য বামপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে একসাথে কর্মসূচি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই সমাবেশ ও মিছিল দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে স্থানীয় স্তরে আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে জনমত গঠন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতিবাদ দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় আরও প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলতে পারে।



