ইস্লামাবাদে আজ পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শারিফ বাংলাদেশ হাইকমিশনের দরজায় গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোক প্রকাশ করেন। তিনি শোকবাণী জানিয়ে দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে তার অবদানের কথা উল্লেখ করেন। এই সফরটি দু’দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিজিটের সময় প্রধানমন্ত্রী শারিফ হাইকমিশনের দর্শনার্থী বইতে সংক্ষিপ্ত বার্তা লিখে রাখেন। তাতে তিনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের স্মরণে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তার রাজনৈতিক কর্মের প্রশংসা করেন। এই নথি পরবর্তীতে দু’দেশের মিডিয়ায় প্রকাশ পাবে।
খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ৮০ বছর বয়সে বিদায় নেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) চেয়ারপার্সন হিসেবে খালেদা জিয়া ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দুই মেয়াদে শাসন করেছেন। তার নেতৃত্বে বহু গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। শেহবাজ শারিফের এই শোকপ্রকাশ দু’দেশের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শারিফের বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “খালেদা জিয়া আমাদের অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছেন এবং তার অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে।” এই মন্তব্যে তিনি দু’দেশের সমন্বিত উন্নয়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশনও শারিফের শোকবাণী স্বীকার করে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ধরনের সমবেদনা দুই দেশের ঐক্যবদ্ধ সম্পর্কের প্রতিফলন। হাইকমিশনের মুখপাত্র ভবিষ্যতে দু’দেশের সহযোগিতা বাড়াতে আরও উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই সফরটি সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নের ধারাকে শক্তিশালী করতে পারে। উভয় দেশই অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং মানবিক বিষয়গুলোতে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। শোকের মুহূর্তে এই কূটনৈতিক অঙ্গভঙ্গি তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি বহু মেয়াদে শাসন করছেন, শেহবাজ শারিফের শোকবাণীকে স্বাগত জানিয়ে দু’দেশের পারস্পরিক সমঝোতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দু’দেশের বন্ধুত্বের ঐতিহ্যকে সম্মানিত করার গুরুত্ব উল্লেখ করেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বের পরবর্তী দিকনির্দেশনা এবং পার্টির অভ্যন্তরীণ গঠন কী হবে, তা এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে।
বাংলাদেশ সরকার শোককালীন আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করবে এবং খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য সমাধি অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হবে।
শেহবাজ শারিফের এই শোকপ্রকাশ দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে বলে আশা করা যায়। ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে উভয় দেশের জনগণের মঙ্গলে অবদান রাখার লক্ষ্য স্পষ্ট।



