অল্ড ট্রাফোর্ডের দীর্ঘমেয়াদী সিজন‑টিকিটধারী একজন ভক্তের মতে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বর্তমান সমস্যাগুলি হেড কোচের পরিবর্তনের চেয়েও গভীর। তিনি উল্লেখ করেন, ক্লাবের ধারাবাহিকভাবে কোচ পরিবর্তনের পদ্ধতি একটি ‘ক্লাউন কার’ এর মতো, যেখানে প্রতিবার নতুন চালককে দ্রুতই সরে দিতে হয়।
ফ্যানের দৃষ্টিতে, ড্যানিয়েল আমোরিমের পদত্যাগ অবশ্যম্ভাবী ছিল এবং বেশিরভাগ বিশ্লেষকই এ কথা স্বীকার করেন। তিনি যুক্তি দেন, আমোরিমের কোচিং অভিজ্ঞতা সীমিত, রয় কেন বা স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তুলনায় তার প্রভাব কম, এবং ক্লাবের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে তার জ্ঞান অপর্যাপ্ত ছিল।
ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা দলের সঙ্গে তার সম্পর্কও তীব্রভাবে খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আমোরিমের মতে, তিনি যে সিদ্ধান্তগুলো নিতে চেয়েছিলেন সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য তাকে স্বাধীনতা দেওয়া উচিত, আর ব্যবস্থাপনা দলকে তাদের কাজের উপর মনোযোগ দিতে বলা উচিত। এই দাবি ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়।
লিডসের সঙ্গে ১-১ ড্রের পর, আমোরিমের প্রকাশ্য মন্তব্যগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে। তিনি জনসমক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, যা ক্লাবের মালিক জিম র্যাটক্লাইফ, জেসন উইলকক্স এবং অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অপ্রত্যাশিত নয়। ফ্যানের মতে, আমোরিমের এই দৃঢ়তা এবং অটল মনোভাবই শেষ পর্যন্ত তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১৪ মাস আগে, এই ভক্তের দৃষ্টিতে, ক্লাবকে এরিক টেন হ্যাগের সঙ্গে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত ছিল এবং তার উত্তরসূরির প্রতি বিশ্বাস রাখা উচিৎ ছিল। তিনি বলেন, আমোরিমের কিছু ইতিবাচক দিকও ছিল, যা তার নেতিবাচক দিকের তুলনায় সামান্য বেশি মূল্যবান। আমোরিম ক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়নের অভাব, কিছু খেলোয়াড়ের ‘অধিকারবোধ’ এবং প্রশিক্ষণ সময়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য চাপ দিয়েছিলেন।
ফ্যানের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ বেতনভুক্ত কিছু খেলোয়াড়ের প্রশিক্ষণ সময়ে অনিয়মিত আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। তারা প্রায়ই ওয়ার্ম‑আপকে অপ্রয়োজনীয় বলে গণ্য করে, দেরি করে, এবং অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে সময় ব্যয় করে। এমন পরিস্থিতিতে, বলটি বার থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবার চা পান করার জন্য ফিরে আসে, যা দলের শৃঙ্খলা ও মনোভাবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, এই পুরনো টিকিটধারীর বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমস্যার মূল কারণ কোচের পরিবর্তন নয়, বরং ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, ব্যবস্থাপনা ও খেলোয়াড়দের মনোভাবের সমন্বয়হীনতা। ভবিষ্যতে যদি ক্লাব এই বিষয়গুলো সমাধান করতে না পারে, তবে কোচের ঘূর্ণায়মান পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে।
ক্লাবের পরবর্তী ম্যাচের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে ভক্তরা আশা করছেন যে নতুন কোচের সঙ্গে দলটি পুনর্গঠন করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে।



