শুক্রবার সমুদ্রের ঢেউয়ে দুজনের প্রাণ ত্যাগের পর, ইস্ট ইয়র্কশায়ারের ছোট শহর উইথার্নসিয়া আজ সোমবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী সারা কিলিং এবং ৬৭ বছর বয়সী মার্ক র্যাটক্লিফকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যাওয়া ঘটনার পরে, তাদের ১৫ বছর বয়সী কন্যা গ্রেস এখনও অদৃশ্য।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দুজনকে পানির থেকে তোলার পর, রোববারই তাদের নাম প্রকাশ করা হয়। সারা কিলিং এবং মার্ক র্যাটক্লিফের দেহ উদ্ধার করা হলেও, গ্রেসের সন্ধান এখনও অব্যাহত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সমুদ্র রক্ষী দল সমুদ্রতটের নিচে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
সকালের তুষারপাতের সঙ্গে শীতল বাতাসে, সমুদ্রতটের প্রান্তে ফুঁতে থাকা শূন্যতা এখন ফুলের স্তূপে পরিণত হয়েছে। ভিকটিমদের শেষ যাত্রার স্থানেই রঙিন ফুলের গুচ্ছগুলো একের পর এক জমা হচ্ছে, যেখানে তুষার সাদা চাদরে ঢেকে থাকা শিলার ওপর সূক্ষ্মভাবে বসে আছে।
১৯শ শতাব্দীর শেষের দিকে ঝড় ও জাহাজের ধাক্কায় ধ্বংসপ্রাপ্ত পুরনো পিয়ারের কাস্টেলেটেড প্রবেশদ্বারের সামনে, ক্রমবর্ধমান ফুলের গুছের মাটি দেখা যায়। এই স্থানটি এখন শহরের বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য শোকের মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
একটি কার্ডে লেখা আছে: “আপনার ছোট মেয়ের জন্য চেষ্টা করা মায়ের শোক। পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি প্রার্থনা ও সমবেদনা।” আর অন্য একটি নোটে উল্লেখ করা হয়েছে: “সব সুপারহিরো ক্যাপ পরেন না।” এই শব্দগুলো মৃতদের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
জনিস স্যার, যিনি টিউলিপের গুচ্ছ যোগ করেছেন, তিনি বলেন, “এটা দেখায় যে সবাই সত্যিই যত্নশীল, যা খুবই প্রশংসনীয়।” তার মন্তব্যে স্থানীয় মানুষের সমবেদনা ও একাত্মতার প্রকাশ স্পষ্ট হয়েছে।
দর্শনার্থীরা সমুদ্রের দিকে থেমে, দুইটি ইটের টাওয়ারের মধ্যে দৃশ্যমান ঢেউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। পুলিশ টেপ সমুদ্রতটের সিঁড়ি বন্ধ করে রেখেছে, যাতে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় না যায়। দূরে তরঙ্গের গর্জন শোনায়, যা শোকের পরিবেশকে আরও গাঢ় করে তুলেছে।
জনিস স্যারের আরেকটি মন্তব্যে তিনি যোগ করেন, “এটি আমার হৃদয় ভেঙে দেয়। মানুষ সত্যিই দুঃখিত, তারা বিশ্বাস করতে পারছে না।” তার কথায় স্থানীয় জনগণের আবেগের গভীরতা প্রকাশ পায়।
ইস্ট রাইডিং অব ইয়র্কশায়ার জেলার কাউন্সিলর জন ডিমবার্লাইন জানান, “শহরের জন্য এটি একটি অন্ধকার ও ধূসর সপ্তাহান্ত। পরিবেশ খুবই শোকময়, দুঃখজনক।” তার বক্তব্যে সম্প্রদায়ের সামগ্রিক মেজাজের বর্ণনা রয়েছে।
সেইসাথে, শহরের সেন্ট ম্যাথিউস চার্চের রিভারেন্ড ক্লাইভ হলও একই স্থানে গিয়ে শোকাহত পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সান্ত্বনা ও প্রার্থনা প্রদান করেন। তার উপস্থিতি স্থানীয়দের জন্য মানসিক সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
উচ্চ দৃশ্যমানতা জ্যাকেট পরিহিত কোস্টগার্ড কর্মকর্তারা সমুদ্রতটের নিচের এলাকা সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধান করছেন। তারা সম্ভাব্য কোনো সূত্র বা প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সমুদ্রের তলায় ও তীরবর্তী অংশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ ও সমুদ্র রক্ষী দল একত্রে কাজ করছে, যেখানে গ্রেসের সন্ধান এখনও চালু রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো সন্দেহভাজন বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলমান।
উইথার্নসিয়ার বাসিন্দারা এই শোকের মুহূর্তে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে, সমুদ্রের তীরের পাশে গাছের ছায়ায় শোকের গান গাইছে। শহরের সমুদ্রতট এখন দুঃখের প্রতীক, যেখানে প্রতিটি ফুল ও নোট একটি স্মরণীয় বার্তা বহন করে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পর, স্থানীয় সমাজের সংহতি ও সমবেদনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, এবং ভবিষ্যতে গ্রেসের নিরাপদ ফিরে আসা ও পরিবারের সান্ত্বনা কামনা করা হচ্ছে।



