19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগাজীপুরে সুরভীর বয়সের অসঙ্গতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার শোকজ আদেশ

গাজীপুরে সুরভীর বয়সের অসঙ্গতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার শোকজ আদেশ

গাজীপুরের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ ফজলুল মাহদি ৫ জানুয়ারি সোমবার একটি আদেশ জারি করে, যেখানে জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীর বয়স সংক্রান্ত তথ্যের গণ্ডগোল পরিষ্কার করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শোকজ দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটিতে প্রথমে এজাহারে অভিযুক্তের বয়স ২১ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, তবে পরে পুলিশ ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদনে বয়স ২০ বছর হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এই দুই সংখ্যার পার্থক্য আদালতের নজরে এলে, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুনানিকালে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট দাবি বা আইনি আপত্তি না থাকলেও, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক নেটওয়ার্কে সুরভীর বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে প্রচারিত হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালত উল্লেখ করেন, যদিও এজাহারে বয়স ২১ বছর উল্লেখ ছিল, তবে পরবর্তীতে দাখিল করা পুলিশ রিপোর্টে তা ২০ বছর দেখানো হয়েছে, যা একধরনের অসঙ্গতি হিসেবে বিবেচিত। আদালত আরও জোর দিয়ে বলেন, মামলার শুনানিকালে অভিযুক্তের বয়স অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে কোনো নির্দিষ্ট দাবি না থাকলেও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল তথ্যের ফলে মামলার সঠিক প্রোফাইল গঠনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

আদালত এই পরিস্থিতিকে তদন্তকারী কর্মকর্তার ‘চরম গাফিলতি’ এবং ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে। সুতরাং, তিনি আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে উপস্থিত হয়ে, অভিযুক্তের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা অনলাইন ভেরিফায়েড জন্মনিবন্ধন সনদসহ সশরীরে হাজির হতে বাধ্য। এতে করে বয়সের অসঙ্গতি সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।

বয়সের সঠিক নির্ধারণের গুরুত্ব অপরিসীম, বিশেষ করে যখন অপরাধের প্রকার এবং শাস্তি নির্ধারণে বয়স একটি নির্ধারক উপাদান। যদি অভিযুক্তকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তার জন্য প্রযোজ্য আইন ও শাস্তি ভিন্ন হতে পারে। তাই আদালত এই বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত মামলার সুষ্ঠু অগ্রগতি নিশ্চিত করা কঠিন।

মামলার পূর্ববর্তী পর্যায়ে, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অমিত কুমার দে একই অভিযুক্তের জন্য চার সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন। এই জামিন আদেশের পরেও, বয়স সংক্রান্ত তথ্যের অস্পষ্টতা এবং মিডিয়ার ভুল প্রতিবেদন মামলাকে জটিল করে তুলেছে।

শোকজ আদেশের মাধ্যমে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যে তিনি সঠিক নথিপত্র না দেখিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবে না। তিন দিনের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলাটি স্থগিত থাকবে না, তবে যদি তিনি সময়মতো উপস্থিত না হন, তবে অতিরিক্ত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়ে যায়।

এই আদেশের ফলে তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলোতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে, ভবিষ্যতে এধরনের তথ্যগত ভুল এড়াতে পুলিশ ও আদালত উভয়েরই নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বয়স সংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা কেবল আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নয়, বরং জনসাধারণের বিশ্বাস বজায় রাখার জন্যও অপরিহার্য। এই মামলায় মিডিয়ার ভুল তথ্যের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, যা ভবিষ্যতে সংবাদ সংস্থাগুলোর জন্য সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে।

ম্যাজিস্ট্রেটের শোকজ আদেশের পর, তদন্তকারী কর্মকর্তা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন এবং কোন নথি উপস্থাপন করবেন, তা আগামী আদালত শোনানিতে স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে, অভিযুক্তের বয়সের সঠিকতা নিশ্চিত হলে, মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপগুলো নির্ধারিত হবে।

সর্বোপরি, গাজীপুরের এই মামলায় বয়সের অসঙ্গতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে, যা দ্রুত এবং সঠিকভাবে সমাধান করা দরকার, যাতে বিচার প্রক্রিয়া কোনো অনিশ্চয়তা ছাড়াই এগিয়ে যায়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments