জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে অস্থায়ী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করেছে যে ফ্যাসিস্ট শক্তি ও ধ্বংসাত্মক গোষ্ঠীর এজেন্টরা দলীয় কাঠামোতে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। সতর্কতা জানানো হয়েছে আজ সেক্রেটারিয়েটের আইন ও শৃঙ্খলা বিষয়ক পরামর্শক কমিটির বৈঠকে, যেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে নতুন একটি আদেশের খসড়া প্রস্তুত করার বিষয়ও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। এই আদেশের মাধ্যমে জুলাই বিদ্রোহের সময় সক্রিয় নেতা, বিশেষ করে ছাত্র নেতাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুইজন দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, আদেশের খসড়া ইতিমধ্যে প্রস্তুত এবং শীঘ্রই আইনসভার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
কমিটির আরেকটি মূল বিষয় ছিল নির্বাচনের সময় সামাজিক সাদৃশ্য বজায় রাখা। সরকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এই প্রেক্ষাপটে গৃহ বিষয়ক উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সকল রাজনৈতিক দলকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
চৌধুরী উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন, দলীয় বিরোধের সুযোগ নেয়া কোনো ধ্বংসাত্মক গোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত দরজা হতে পারে। তাই পার্টিগুলোকে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগের মাধ্যমে শত্রুতা বাড়তে না দেওয়ার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, সরকার নির্বাচনের সময়সূচি বজায় রাখার ক্ষেত্রে অটল এবং কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপে বাধা দিতে প্রস্তুত।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপরও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চৌধুরী উপদেষ্টা বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের পরিধি বাড়িয়ে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রম রোধ করা হবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দেশের সর্বত্র নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলা করা যায়।
বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোতে বিশেষ করে ছাত্র নেতাদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে। জুলাই বিদ্রোহের সময় সক্রিয় হয়ে দেশের বিভিন্ন অংশে প্রতিবাদ ও আন্দোলন পরিচালনা করা এই নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারী অগ্রাধিকার। আদেশটি অনুমোদিত হলে, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে হবে।
এই সতর্কতা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকারী সূত্রগুলো জোর দিয়েছে। সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে, কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপের সুযোগ না দিয়ে, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করবে।
অবশেষে, গৃহ বিষয়ক উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন যে, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনের সময় কোনো ধ্বংসাত্মক গোষ্ঠীর কার্যক্রমে বাধা দেওয়া এবং দেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখা অগ্রাধিকার হবে।



