গুম সংক্রান্ত কমিশন তার চূড়ান্ত রিপোর্ট রোববার প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বিশদ ব্যাখ্যা দিল। কমিশনের প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী উল্লেখ করেন, দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থার সংস্কার অপরিহার্য, কারণ তারা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে।
চৌধুরী বলেন, “গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্ষমতার অংশ হতে চায়, ফলে তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নাক গলায়।” তিনি অতীতে বিভিন্ন সরকার, বিশেষ করে সদ্য বিদায়ী সরকার, এসব সংস্থাকে অপব্যবহার করেছে বলে সমালোচনা করেন।
কমিশনের রিপোর্টে ১,৯১৩টি অভিযোগের মধ্যে ২৩১টি পুনরাবৃত্তি অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তের পর ১১৩টি অভিযোগ গুমের সংজ্ঞার বাইরে বলে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে ১,৫৬৯টি অভিযোগ সক্রিয় বিবেচিত হয়েছে, যার মধ্যে ২৫১টি নিখোঁজ এবং ৩৬টি গুমের পর লাশ উদ্ধার হয়েছে।
চৌধুরী উল্লেখ করেন, “নিখোঁজ ব্যক্তিদের বেশিরভাগই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।” তিনি ডিএনএ পরীক্ষা সহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার সুপারিশ করেন।
প্রতিবেদনটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা সীমিত করার আহ্বান জানায়। চৌধুরী ব্যাখ্যা করেন, “পুলিশের কাজ হল দেশের ভিতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আর সেনাবাহিনীর কাজ হল প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের প্রস্তুতি।” তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থার থেকে সেনা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা উচিত।
এর পরিবর্তে তিনি প্রস্তাব করেন, দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষায়িত এলিট ফোর্স গঠন করা। এই ফোর্সের মাধ্যমে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের দ্রুত তদন্ত ও সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
কমিশন র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) বিলুপ্তির সুপারিশও করেছে। চৌধুরী বলেন, “র্যাবের অস্তিত্ব গুমের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাই এর অবসান অপরিহার্য।” তিনি অতিরিক্তভাবে, গুমের তদন্তে ব্যবহৃত সব প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন।
প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী বললেন, “পুলিশের কাজ হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, আর সেনাবাহিনীর কাজ হল প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের প্রস্তুতি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেনা কর্মকর্তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।
গুম কমিশনের এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। চৌধুরী উল্লেখ করেন, “সদ্য বিদায়ী সরকার অপব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে, এখনই পরিবর্তনের সময়।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে কেবল তথ্য সংগ্রহের কাজে সীমাবদ্ধ রাখা হবে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকবে।
এই রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার কী ধরনের আইনগত বা কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে, তা আগামী সপ্তাহে গৃহীত হবে। তবে চৌধুরীর মতে, গুমের মতো দুঃখজনক ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।



