মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার (৪ জানুয়ারি) ভারতকে সতর্ক করে জানান, রাশিয়ার তেল আমদানি অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত শুল্ক বাড়াতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ নেতা, এবং তার সন্তুষ্টি বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভারত যদি রাশিয়ার তেল থেকে সরবরাহ গ্রহণ করে, তবে বাণিজ্যিক শর্তাবলীতে দ্রুত পরিবর্তন আনা হবে। শুল্ক বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করে বলেন, এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতীয় সরকার রাশিয়ার তেল থেকে নির্ভরতা কমাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়তে পারে। মোদি সরকারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রাধিকারপূর্ণ।
ট্রাম্পের সতর্কতা শুল্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে, তিনি যুক্তি দেন যে শুল্ক দ্রুত বাড়ানো সম্ভব, যা রাশিয়ার তেল আমদানির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এই ধরনের নীতি পরিবর্তন ভারতীয় জ্বালানি খাতের খরচ বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ট্রাম্পের মন্তব্যে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের উল্লেখও করা হয়, যা বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুদের মধ্যে একটি।
ভেনেজুয়েলার তেল মজুদ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি, যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত। এই সম্পদকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার তেল নীতি এই প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে সাম্প্রতিক টেলিফোনিক আলাপচারিতায় উভয় নেতা বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। শুল্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা সত্ত্বেও, দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক লেনদেনের গতি বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, ট্রাম্পের সতর্কতা ভারতকে রাশিয়ার তেল থেকে ধীরে ধীরে সরে যাওয়ার দিকে প্ররোচিত করতে পারে, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি অনুসন্ধানে ত্বরান্বিত করতে পারে। ভবিষ্যতে শুল্ক নীতি কীভাবে গড়ে উঠবে, তা ভারতীয় জ্বালানি নীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল হবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ান তেল আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর সম্ভাবনা ভারতকে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে, এবং মোদির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



