গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স‑ফ্রেডেরিক নিলসেন সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে অসম্মানজনক ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে নিন্দা করেন। নিলসেনের এই মন্তব্যের পেছনে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য রয়েছে, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে রাশিয়া ও চীনের উপস্থিতি তুলে ধরেছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করা হয় এবং তিনি অঞ্চলটি রাশিয়ান ও চীনা জাহাজে বেষ্টিত বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি গ্রিনল্যান্ডের সমস্যাকে ভেনেজুয়েলা ও সামরিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন।
নিলসেন এই মন্তব্যের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড বহু প্রজন্ম ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু। কঠিন সময়ে দুই দেশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে, এটাই তাদের সম্পর্কের ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই বন্ধুত্বের ভিত্তিতে কোনো মন্তব্যই গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে হুমকি না দিয়ে করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী নিলসেন ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করেন, বিশেষ করে যখন গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয়তা ও ভেনেজুয়েলা ও সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়গুলো একসাথে যুক্ত করা হয়। তিনি এটিকে কেবল ভুল নয়, বরং গ্রিনল্যান্ডের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেন।
নিলসেনের মতে, গ্রিনল্যান্ড কোনো মহাশক্তির মতামত বা বস্তু নয়; এটি একটি স্বাধীন জনগণ ও গণতন্ত্র, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমান মর্যাদার অধিকারী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের জনগণকে সম্মান করা উচিত, বিশেষ করে যখন তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বন্ধুদের মধ্যে হুমকি, চাপ বা অনুপযুক্ত সংযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা কোনো পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এই ধরনের কথাবার্তা গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি আঘাতকারী হিসেবে দেখেন।
নিলসেন স্পষ্ট করে জানান, গ্রিনল্যান্ড আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে এবং যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো আলোচনা আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলতে হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এই বিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ ও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। নিলসেনের অবস্থান স্পষ্ট যে, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা রক্ষা করা হবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনার দিকে নজর রাখছেন, কারণ এটি উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। নিলসেনের মন্তব্যের ফলে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা কী হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।
সংক্ষেপে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের মন্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক মর্যাদার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই সমালোচনার জবাব দেবে এবং দু’দেশের সম্পর্কের পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



