ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রজু স্মারক ভাস্কর্যের সামনে অনুষ্ঠিত র্যালিতে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি সরকারী প্রশাসনকে বিএনপি‑মুখী হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, তরিক রহমানের দেশে আগমনের সময় সরকারী কর্মচারীরা অফিস ত্যাগ করে রাস্তায় তাকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন।
পাটওয়ারি এই মন্তব্যটি ঢাকার ধারা‑৮ (রামনা, শাহবাগ, মতি জহিল, শাহজাহানপুর) নির্বাচনী এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রেলির সময় প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শীঘ্রই শীখ হাসিনার শাসনামলে একই রকম পার্টিজান আচরণ দেখা গিয়েছিল এবং বর্তমান সরকারে তা পুনরাবৃত্তি না হওয়া দরকার।
সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজের পর শহীদ ওসমান হাদির সমাধি পরিদর্শন করেন। হাদি ছিলেন স্বাধীনতার জন্য কণ্ঠস্বর তুলেছিলেন এবং প্রকাশ্য স্থানে গুলি চালিয়ে নিহত হয়েছিলেন। পাটওয়ারি জানান, হাদির হত্যার পর ২০ দিন পেরিয়ে গিয়েও তার দায়ী ব্যক্তিদের কোনো ধরা পড়েনি।
হাদির ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি নিয়ে পাটওয়ারি রাগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার এখনও হত্যাকারীদের সন্ধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এই বিষয়টি দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।
এরপর তিনি ধারা‑৮ এবং সমগ্র দেশকে “আজাদ জোন” ঘোষণা করেন। এই শব্দটি দিয়ে তিনি বোঝাতে চান যে এই অঞ্চলগুলোতে নাগরিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। তিনি বলেন, সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য সমাজের সব স্তরে লুট, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা দরকার।
পাটওয়ারি আরও জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা দল এই আজাদ জোনে জবরদস্তি, অবৈধ দখল বা অন্য কোনো অপরাধ করে, তবে তাদেরকে “আজাদি” স্লোগান দিয়ে গ্রেপ্তার করে প্রশাসনের হাতে হস্তান্তর করা উচিত। তিনি এই ধরনের অপরাধকে জাতীয় নিরাপত্তার সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
অধিকন্তু, তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করেন যে, যদি সরকারী সংস্থা জবরদস্তি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষে দাঁড়ায়, তবে জনগণকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিতে হবে। এই বক্তব্যে তিনি সরকারের ন্যায়বিচার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বকে পুনরায় জোর দেন।
পাটওয়ারির মন্তব্যের পটভূমিতে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে পার্টিজানতা বাড়ার অভিযোগ উঠে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে শীখ হাসিনার শাসনামলে একই ধরনের আচরণ দেখা গিয়েছিল এবং তা পুনরাবৃত্তি না হওয়া উচিত।
র্যালির সময় তিনি তরিক রহমানের দেশে আগমনের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণকে উদাহরণ দিয়ে বর্তমান সরকারের পার্টিজান প্রবণতা প্রকাশ করেন। তরিক রহমানের ভ্রমণ ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত রাজনৈতিক গতিবিধি দেশের বিভিন্ন স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাটওয়ারি রেলিতে উপস্থিত সমাবেশকে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর একটি মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের আহ্বান জানান, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য সকল অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একত্রে কাজ করতে হবে।
এই র্যালি এবং পাটওয়ারির বক্তব্যের ফলে ধারা‑৮ এবং দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে এই ধরনের মন্তব্যকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হতে পারে।
অবশেষে, পাটওয়ারি উল্লেখ করেন, আজাদ জোনের ঘোষণার মাধ্যমে তিনি দেশের সকল নাগরিককে স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার জন্য একত্রে দাঁড়াতে আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এই আহ্বানকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।



