ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পর ভেনেজুয়েলায় নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনা না রেখে, দেশের তেল ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা ও আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ, যা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে না।
ট্রাম্পের মতে, লাতিন আমেরিকার এই তেলসমৃদ্ধ দেশের সম্পদ সঠিকভাবে পরিচালনা করা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি যুক্তি দেন, ভেনেজুয়েলায় নির্বাচনের আয়োজন এখন তার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই; মূল লক্ষ্য হল দেশের শাসনব্যবস্থা স্থিতিশীল করা এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা।
ইরাক ও আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী সংঘর্ষের তুলনা এড়িয়ে, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলছেন যে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক জড়িতকরণ থেকে রক্ষা করা তার প্রশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে একটি সীমিত মিশন হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল করবে।
ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছে। রদ্রিগেজ এই দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলাপ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা কখনোই কোনো বিদেশি শক্তির উপনিবেশ বা দাসত্বে পরিণত হবে না।
ট্রাম্প রদ্রিগেজের এই অবস্থানকে সমর্থন করেন না; তিনি সতর্ক করেন যে, যদি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা মেনে না চলেন, তবে তাকে নিকোলাস মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে। এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে উদ্বেগ বাড়ায়।
একটি আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের শাসনব্যবস্থা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সরাসরি ওয়াশিংটনের তত্ত্বাবধানে থাকবে, যা তার প্রশাসনের কৌশলগত লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে।
ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ও সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো এবং ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
চীনও এই ঘটনাকে ‘আধিপত্যবাদী’ হিসেবে সমালোচনা করে, যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সমালোচনা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথকে কঠিন করে তুলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। রদ্রিগেজের নেতৃত্বে দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা কীভাবে পুনর্গঠন হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের প্রতিক্রিয়ায় কী ধরনের নীতি গৃহীত হবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ নজরে থাকবে।



