বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিকেসি) সম্প্রতি একটি ত্রৈমাসিক কমিটি গঠন করে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের আর্থিক অনিয়ম এবং সম্ভাব্য জালিয়াতি বিষয়ক তদন্তের নির্দেশ দেয়। এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) কর্তৃক প্রকাশিত সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রতিবেদনকে অনুসরণ করে, যা বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিকেসি জানিয়েছে যে, তদন্তের আওতায় থাকবে এমন অভিযোগগুলোতে উল্লেখ রয়েছে যে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস সিকিউরিটিজ নিয়ম লঙ্ঘন করে অন্যান্য সংস্থাকে ঋণ প্রদান করেছে এবং তার সহধর্মী প্রতিষ্ঠান বিকন মেডিকেয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত ওষুধ বিক্রি করে শেয়ারহোল্ডারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। এই ধরনের লেনদেন শেয়ার বাজারে স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
অধিকন্তু, কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের দ্বারা নেওয়া ঋণ মূলত বিকন মেডিকেয়ার লিমিটেডের দায়বদ্ধতা হ্রাসে ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও কোম্পানির প্রকাশ্য বিবরণীতে তা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদি এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছে দেওয়া তথ্যের মধ্যে গুরুতর বৈষম্য নির্দেশ করবে।
তদুপরি, তদন্তে এমন লেনদেনের বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে যেখানে বিকন মেডিকেয়ার দ্বারা প্রাপ্ত ঋণ এবং ওভারড্রাফট সুবিধা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের আর্থিক প্রবাহ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা মূলধন বাজারে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং অন্যান্য অনিয়মের সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিকেসি উল্লেখ করেছে যে, উপরের লেনদেনের ধরণ সম্ভাব্য জালিয়াতি এবং প্রতারণার ইঙ্গিত দেয়, যা সম্পূর্ণভাবে উন্মোচন না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীর বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই বিষয়গুলোকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গঠিত কমিটিতে বিকেসি পরিচালক শেখ মাহবুব উর রহমান, উপ-নির্দেশক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক বিনয় দাস অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই তিনজন কর্মকর্তার দায়িত্ব হবে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নথিপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছে প্রকাশিত তথ্যের তুলনা করে সত্যতা নির্ণয় করা।
কমিটির কাজের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে আদেশের তারিখ থেকে ষাট কার্যদিবসের মধ্যে সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করে বিকেসি কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এই সময়সীমা অনুসরণ করে দ্রুত এবং স্বচ্ছ ফলাফল নিশ্চিত করা হবে, যা বাজারে অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হবে।
পূর্বে, মার্চ ২০২৫-এ দৈনিক স্টার একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল যে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস সরাসরি রপ্তানি বন্ধ করে বিকন মেডিকেয়ারের মাধ্যমে বিক্রয় চালু করেছে। এই পরিবর্তনটি কোম্পানির আয় এবং রপ্তানি কৌশলে প্রভাব ফেলেছে এবং বর্তমান তদন্তের পটভূমি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপ ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরের শেয়ার মূল্যে অস্থায়ী পতন ঘটাতে পারে এবং বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছতা এবং নিয়ম মেনে চলা কোম্পানিগুলোর প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার হবে। তাই, শেয়ারহোল্ডার ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের উচিত তদন্তের অগ্রগতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা।



