মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে চালু হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে মাদক পাচার মামলায় হাজির করা হয়। এই ঘটনার পর তেল বাজারে উদ্বেগ বাড়ে; ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুদ বিশ্ব সরবরাহে যোগ হলে অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেন।
অভিযানটি শীতল সকালেই শুরু হয়, মার্কিন বিমানবাহিনীর বোমা হামলা কারাকাসের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এবং দ্রুত মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিরাপদে বের করে নিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, এখন ভেনেজুয়েলা “আমাদের নিয়ন্ত্রণে” থাকবে এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে দেশের পুরনো তেল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে পাঠানো হবে।
অভিযানের পর এশিয়ার প্রারম্ভিক লেনদেনে তেল দামের হ্রাস দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুড তেল ০.২১ শতাংশ কমে ব্যারেল당 ৬০.৬২ ডলারে নেমে আসে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ০.৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫৭.১২ ডলারে পৌঁছায়। উভয় সূচকই পূর্বের নিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান বজায় রাখে।
ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন গত দশকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক উৎপাদন থেকে আজ মাত্র এক মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত নামিয়ে এসেছে, যা মূলত দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও বিনিয়োগের অভাবের ফলে অবকাঠামো ধ্বংসের ফল।
বিশ্লেষকরা জানান, উৎপাদন পুনরুদ্ধার করতে হলে বিশাল মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন, কারণ বহু বছর ধরে অবহেলিত ও ক্ষয়প্রাপ্ত সুবিধা দ্রুত পুনর্নির্মাণ সম্ভব নয়। UBS বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভোর মতে, বর্তমান অবকাঠামোকে পুনরায় চালু করতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা ছাড়া তা কঠিন।
তবে তেল দামের নিম্নগতি বিনিয়োগের আকর্ষণকে আরও কমিয়ে দেয়। বিশ্বব্যাপী সরবরাহের অতিরিক্ততা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক যুদ্ধ এবং ইউক্রেনের চলমান সংঘাতের মতো জটিল কারণগুলো তেল বাজারকে চাপের মধ্যে রাখছে। ২০২৫ সালে তেল দামের হ্রাসের প্রবণতা দেখা গিয়েছে, যদিও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাদুরোর গ্রেপ্তার এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেল শিল্পে হস্তক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার ভিত্তিতে আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে তেল ক্ষেত্রের পুনর্গঠন কাজের জন্য পাঠানো হলে, ভেনেজুয়েলার সরকারকে নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি ও বিনিয়োগের শর্তে মানিয়ে নিতে হবে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি হ্রাস পেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে, যা তেল দামের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তেল বাজারের এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নীতিতে প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে তেল আমদানিকৃত দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়বে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপগুলো এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদকে পুনরায় চালু করতে আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গঠনও এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে বাধ্য হবে, যাতে তেল শিল্পের পুনরুজ্জীবন দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে তেল বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে, এবং ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদনের পুনরুদ্ধারকে কঠিন করে তুলেছে। তেল দামের সাময়িক হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা করেছে।



