ইলেকশন কমিশন (ইসিসি) ৮২ জন প্রার্থীর পার্লামেন্টের জন্য জমা দেওয়া নামাবলি বাতিল করেছে, কারণ তাদের ঋণ ডিফল্টের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এই পদক্ষেপটি ঋণ ডিফল্টের ভিত্তিতে বাতিল হওয়া নামাবলির মোট সংখ্যা, যা ৭২৪টি মোট বাতিলের ১১ শতাংশ গঠন করে।
বাতিলের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) থেকে প্রাপ্ত, যা ইসিসি-কে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা যাচাই করতে সহায়তা করে। ডিফল্ট তালিকার বিস্তারিত তথ্য তৎক্ষণাৎ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে পর্যালোচনা চলমান।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মোট ২,৫৭৪ জন প্রার্থী নামাবলি জমা দিয়েছেন, যা ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই প্রার্থীদের মধ্যে ৩১ জন আদালতের স্টে অর্ডার পেয়েছেন, যার ফলে ব্যাংকগুলোকে তাদের ঋণ ডিফল্ট হিসেবে চিহ্নিত করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
অবশিষ্ট ২,৪৬১ প্রার্থীকে ডিফল্টমুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের নামাবলি বৈধ বলে বিবেচিত। নভেম্বর মাসে সিআইবি ঋণ সংক্রান্ত তথ্য আপডেট শুরু করে, যাতে প্রার্থীদের রেকর্ড নামাবলি জমা দেওয়ার আগে সঠিক থাকে।
নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো প্রার্থী নামাবলি জমা দেওয়ার কমপক্ষে সাত দিন আগে তার ঋণ স্বাভাবিক অবস্থায় না থাকে, তবে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই শর্তের ভিত্তিতে ইসিসি নামাবলি পর্যালোচনা শুরু করে ৩০ ডিসেম্বর এবং গতকাল শেষ করে।
প্রার্থীরা ইসিসি-র রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন, যা পরবর্তী পর্যায়ে সমাধান করা হবে। আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে ৮২ জন প্রার্থীর নামাবলি বাতিল হওয়া বিভিন্ন দলকে প্রভাবিত করবে, বিশেষ করে যারা প্রার্থী তালিকায় বড় সংখ্যক নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই প্রার্থীদের পরিবর্তে নতুন প্রার্থী নির্বাচন করতে দলগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাতিলের ফলে কিছু দলকে তাদের নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থী নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, আর্থিক দায়িত্বের মানদণ্ড কঠোর হওয়ায় ভবিষ্যতে প্রার্থীদের ঋণ পরিস্থিতি আরও সতর্কভাবে পরীক্ষা করা হবে।
এই পদক্ষেপটি নির্বাচন আইনের প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। আর্থিক দায়িত্ব না মেনে নামাবলি জমা দিলে প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ইসিসি-র এই সিদ্ধান্তের পর, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো নতুন প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে কোনো ফাঁক না থাকে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



